রাজস্থলীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত দ্বীপময় হেডম্যানের দাহক্রিয়া সম্পন্ন

234

রাজস্থলীঃ-রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩৩৩নং ঘিলাছড়ি মৌজার হেডম্যান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দ্বীপময় তালুকদার (৪৫) এর শেষ কৃত্ব অনুষ্ঠান গত ২৪শে অক্টোবর বেলা ২ঘটিকার সময় সামাাজিক শ্বশ্মনে সম্পন্ন হয়েছে। শেষকৃত্ব অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিবর্গের ঢল নেমেছে।
উল্লেখ্য গত ২২ অক্টোরব দ্বীপময় তালুকদারকে অপহরণের পর গুলি হত্যা করছে সন্ত্রাসীরা। পরেরদিন সকালে এলাকাবাসী অনেক খুজাখুজির পর হলুদিয়া পাড়া নামক স্থানে তার গুলিবৃদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা থেকে ৬কিঃমিঃ দুরত্ব হলুদিয়া পাড়া নামক এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রাজস্থলী থানায় নিয়ে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকাবাসী লাশ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মিছিলটি রাজস্থলী বাজার হইতে রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পে পোস্ট ঘরের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করলে চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা উত্তেজিত জনতাকে শান্তনা দেন। পরে উপজেলা চত্ত্বরে মরদেহ নিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা অবস্থান করে মিছিল করেন। মিছিলে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান বক্তরা। বুধবার বাজারের দিন থাকলেও বাজারে সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং রাজস্থলী চন্দ্রঘোনা সড়কে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করেনি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দ্বীপময় তালুকদার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২৬ ইসিবি চলমান ট্রানজিট সড়ক নির্মাণ কাজে পাথর দেওয়া জন্য কয়েক জনে মিলে দীর্ঘ এক মাস ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে পাথর সংগ্রহ করে আসছেন। প্রতিদিনের ন্যায় কাজ দেখা শুনা শেষে সড়ক দিয়ে হলুদিয়া পাড়া জিরো মাইল এলাকা দিয়ে বাড়ীতে আসার পথে ৪ জন অজ্ঞাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দুইটি মোটরসাইকেল থাকা দ্বীপময়সহ ৪জনকে তাকে অবরুদ্ধ করে তাদের মধ্যে থেকে দ্বীপময় তালুকদারকে অস্ত্র ঠেকিয়ে নিয়ে যায়। বাকি তিন জন সুরেশ কান্তি তঞ্চগ্যা, (৪৮) গান্ধী তঞ্চগ্যা (৪৪) ও পাথরের কাজের মিস্ত্রি নাছির উদ্দিনের মোবাইল গুলো নিয়ে রাস্তায় এক স্থানে বসে থাকতে বললে, তিন জন চুপ করে বসে থাকেন। পরে ৫-৬মিঃ পর ২-৩ রাউন গুলি শব্দ শুনে প্রানের ভয়ে বাকি তিন জন তাতক্ষনিক সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সরণাপন্ন হলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তারা রাজস্থলী সদরে আসতে সক্ষম হয়।
রাজস্থলী থানা অফিসার ইনচার্জ মফজল আহাম্মদ এর সাথে আলাপ কালে তিনি ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেন এবং লাশ পুলিশের নিকট থেকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। তাকে কারা হত্যা করছে এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। তবে মামলা রুজু হলে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাবেন বলে জানান। নিহত দ্বীপময় তালুকদারের মাথায় ও মুখে গুলির দাগ রয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা রুজু হয়নি। নিহত দ্বীপময় তালুকদার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা বিএনপি সদস্য, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং রাজস্থলী বাজার মৈত্রী বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব রয়েছে এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত্যু নব কুমার তালুকদার এর বড় ছেলে।
এদিকে হেডম্যান দ্বীপময় তালুকদারের শেষ কৃত্ব অনুষ্ঠানে ভিক্ষুক সংঘ, তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উবাচ মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ ছাদেক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অংনুচিং মারমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উসচিন মারমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লংবতি ত্রিপুরা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ খলিলুর রহমান, আবুল হাসেম, সাধারণ সম্পাদক মংউ মারমা, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল, যুবদলের আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ রুবেল প্রমুখ। দ্বীপময় তালুকদারের মৃত্যুতে রাজস্থলী উপজেলা শোকের ছায়া নেমে এসেছে।