॥ কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহাসিক সীতাঘাট মন্দিরের ভবন নির্মানে বাঁধা প্রদান করছে বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের সময়ে শুরু হওযা এ মন্দিরের ভবন নির্মান কাজ বর্তমান সরকারের সময়ে এসে বাঁধা প্রদান করায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্যোগ দেখা দিয়েছে। কিন্ত বনবিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। বন বিভাগের মতে তাদের সংরক্ষিত জমিতে এ ভবন নির্মান করা যাবেনা। স্থানীয়দের এখন প্রশ্ন হলো গত তিন বছর পুর্বে এ ভবন নির্মান কাজ শুরু করা হলে তখন কেন বাঁধা দেওয়া হয়নি। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে তিন অর্থ বছরের প্রকল্পে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে এ মন্দিরের ভবন নির্মান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা অবিযোগ করে জানায়, একই এলাকায় ইতিমধ্যে সীতামন্দির ছাড়াও নাট মন্দির, শিব মন্দির, নদীর পাড়ে গঙ্গা মন্দির করা হয়েছে। কিন্ত সরকার যেখানে উন্নয়ন চায় সেখানে বন বিভাগ কেন বাঁধা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগ পরিকল্পিতভাবে এ মন্দিরের ভবন নির্মানে বাধাঁ দিচ্ছে।
সীতা মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতির্ময়ান্দ মহারাজ জানান, মন্দিরটি ২৬ বছরের আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সীতা পাহাড়ের নামে এই মন্দির এর নামকরণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে একটি ভবন নির্মান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভবন নির্মানের জন্য বেইজ ঢালাইসহ প্রায় ষাট শতাংশ কাজ সম্পাদন হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের আওতায় কাপ্তাই বন বিভাগের পক্ষ হতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। বনবিভাগ বলছে সংরক্ষিত বনে কোন স্থাপনা করা যাবেনা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে এখানে এতোগুলো ভবন নির্মান করা হয়েছে আর এ ভবনটি গত ২০২২ অর্থ বছর থেকে নির্মান করে আসছে তখন কেন বাধাঁ দেওয়া হয়নি! বাধা দেওয়া হলে সরকারের কোটি টাকা আমরা এখানে ব্যয় করতাম না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারী সংরক্ষিত বনে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মান করা যাবেনা। সীতা পাহাড় এলাকা হলো সংরক্ষিত বন। এখানে কোন প্রকার নির্মান কাজ করতে দেয়া হবেনা। তিন বছর পূর্বে এ ভবন নির্মান কাজ শুরু হওয়ার সময় কেন বাঁধা দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন বাঁধা দেওয়া হয়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি। যে অথরিটি করেছে সে অথরিটি তা করতে পারেনা। এ বিষয়ে সরকারী যে সকল দপ্তর এসব স্থাপনা নির্মানে অর্থ বরাদ্ধ করেছে তাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উক্ত এলাকায় এলজিইডির একটি রাস্তার কাজও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারী অর্থ ব্যয়ে সরকারী কোন প্রপাটিতো ধংস করতে পারেনা।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাই এলাকায় সীতা পাহাড় এলাকাটি যার নামে নামকরন করা হয়েছে সে নামেই এখানে মন্দিরসহ একাধিক স্থাপনা দীর্ঘদিন আগে থেকে রয়েছে। এখানে সীতার পাহাড়, সীতার ঘাট ও সীতার মন্দির রয়েছে। এক প্রকার সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন এটিকে তীর্থস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে লোকজন আসেন পুজা অর্চনা করার জন্য। তিনি জানান, একটি অব্যহৃত জায়গার নির্ধারিত কিছু এলাকায় মন্দির নির্মান করা হচ্ছে। মন্দিরের জন্য একটি ভবনের প্রায় ষাট শতাংশ নির্মান কাজ সম্পাদন করা হলেও শেষ পর্যায়ে বন বিভাগ সংরক্ষিত বনের কথা উল্লেখ্য করে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়ায় এ এলাকায় সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তিন বছর মেয়াদে সীতা ঘাট মন্দির ভবন নির্মান কাজ শুরু করা হয়। পাইশি এন্টারপ্রাইজের নামে এ কাজ করছেন কাপ্তাইয়ের ঠিকাদার আক্তার হোসেন মিলন। তিনি জানান ইতিমধ্যে উক্ত মন্দিরের ভবন নির্মান কাজ সমাপ্ত করার জন্য এক বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় ষাট শতাংশ কাজও সমাপ্ত করা হয়। অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করতে গেলে বনবিভাগ থেকে বাধাঁ প্রদান করে। যার জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়। তিনি আরো জানান কাজ বন্ধ রাখার ফলে তিনি যেমনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তেমনি কাজটি পুরোদমে শেষ করতে না পারায় সরকারের টাকাও কোন কাজে লাগছে না।
কাপ্তাই সীতা ঘাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ বলেন, চলমান প্রকল্প হঠাৎ কেন বন বিভাগ বন্ধ করে দিল, সেটা আমাদের মাথায় আসছে না। এটা একটা হিন্দুদের ঐতিহাসিক তীর্থ স্থান। উৎসব পার্বন ছাড়াও এখানে প্রতিদিন ভক্তরা আসে। তিনি এ ভবনের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দাবী জানান।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল দেওয়ান বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে প্রকল্প দেয়ার আগেও সেখানে অনেক ভবন রয়েছে। বাজেট স্বপ্লতার কারনে তিন বৎসর মেয়াদী এ প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদার প্রায় ষাট লাখ টাকার বিলও উত্তোলন করেছে। হঠাৎ করে ভবন নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেয়ায় এ এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি আরো জানান, তিন বছর আগে যখন কাজ শুরু করা হয় তখন যদি কোন প্রকার বাঁধা প্রদান বা বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকার কথা বলা হলে সরকারী টাকা এখানে ব্যয় হতোনা।
