পাহাড়ি ঢলে ডুবলো দূর্গম ফারুয়ার ২০ গ্রাম, পানির স্রোতে পৌঁছানো যাচ্ছে না ত্রাণ

134

॥ সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি ॥
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির টানা ভারী বর্ষণের দূর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে ডুবে গেলো প্রায় ২০টি গ্রাম। টানা ৮ দিন ধরে বৃষ্টিপাতে একবার গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে ডুবে গেলেও এতটুকু উপরে উঠেনি পানি। কিন্তু গত রাতে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে বানের পানি। ডুবে গেছে ফারুয়া ইউনিয়নে বাজারসহ প্রায় এলাকা। এতে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। ভয়ে মালামাল সামলাতে রাত জেগে এলাকাবাসী নির্ঘুম কাটিয়েছেন বলে জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা।
এছাড়াও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন জানান, গতবারে প্লাবিত হয়েছে সবেমাত্র শতাধিক দোকান, আজরাতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পুরো বাজার একেবারে ডুবে গেছে। তাই প্রতিবছর বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে বাজারটি ডুবে তলিয়ে যায়। যা কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়। বাজারটা স্থানান্তরিত করার জন্য আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয়ের নীচতলা ডুবে রয়েছে। পাঠদানে চরম অসুবিধা হচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক খুশি বাবু তঞ্চঙ্গ্যা জানান, আমারা ইউনিয়ন বিএনপি বন্যা দুর্গতদের সবসময় পাশে রয়েছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।
এসব এলাকা গুলো হলো-তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনা ছড়ি, যামু ছড়া, শুক্কর ছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপড়া ছড়া, এগুজ্যা ছড়ি, ঝাংবিল, ফারুয়া বাজার, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইন ছড়ি পাড়া, রোয়াপাড়া ছড়া, আকাটা ছড়া, ফঁ ছড়া, চংড়াছড়িসহ বেশকিছু এলাকা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, পানির তীব্র স্রোতের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। পানির স্রোত কমানোর সাথে সাথে পৌঁছানোর হবে। তাছাড়া রাজাস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়ক উদয় চর এলাকায় ধসে পড়েছে। বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। তাদের পাশে থাকার জন্য।
ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, দাতা গোষ্ঠী ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জরুরী প্রয়োজন।