॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন ম্যানেজমেন্ট সেল (আরআইএমসি) এর আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কিউ১ জার্নালে প্রকাশনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নয় জন সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উক্ত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমিন মহোদয় উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো কিউ১ জার্নালে প্রকাশনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দকে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে রাবিপ্রবি এক অনন্য মাইলফলক অর্জন করলো বলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী মহোদয় মন্তব্য করেন।
এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন ম্যানেজমেন্ট সেলকে ধন্যবাদ জানান এবং সম্মাননা প্রাপ্ত নয় জন শিক্ষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বক্তব্যের শুরুতে প্রধান বক্তা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমিন মহোদয়ের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক অর্জন, গবেষণা ও শিক্ষকতা পেশায় অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভূঁয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে একজন শিক্ষক/গবেষক জ্ঞানের সৃজন করতে পারেন। গবেষণার মাধ্যমে গবেষকরা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন এবং আনএক্সপ্লোরড (অনাবিষ্কৃত) বিষয়েও আলোকপাত করেন। এটাই গবেষণা এবং উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য। প্রান্তিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিউ১ জার্নালে গবেষণা প্রকাশিত হওয়া রাবিপ্রবি’র জন্য একটি বড় অর্জন। পার্বত্য অঞ্চল ও বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে শিক্ষকদের গবেষণায় পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ বিশেষত কাপ্তাই হ্রদ, পরিবেশ, বন সংরক্ষণ, খনিজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়সমূহ অর্ন্তভূক্তির বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য বলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পের শিক্ষার্থীদেরকে অর্ন্তভুক্ত করার বিষয়েও অনুপ্রাণিত করেন। তিনি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ফেলোশীপ প্রদানের মাধ্যমে গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা (মাস্টার্স থিসিস) করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জ্ঞানের সৃজন করতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই এবং গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকতা পেশার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, কারন পিএইচডি ডিগ্রী লাভের মাধ্যমে একজন প্রভাষক গবেষণায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে উঠেন এবং সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পিএইচডি সম্পন্ন করার বিষয়ে উৎসাহিত করেন। তিনি শিক্ষকদেরকে পাঠদানের সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তি (এআই) আয়ত্ব করার বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে বলেন। শিক্ষকদের গবেষণা জাতির উন্নয়নে ও নীতি নির্ধারণে কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি চীনের একটি প্রদেশে একজন স্বনামধন্য প্রফেসর এর গবেষণা প্রকল্পের (মোসো বাঁশ) মাধ্যমে কিভাবে একটি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা, পর্যটন, বাঁশের হস্তশিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা, ইকো ট্যুরিজম, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব তা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার সময় গবেষকদের কঠোর ভাবে রিসার্চ এথিক্স মেনে চলার আহবান জানান এবং জনসাধারণের ট্যাক্সের টাকায় যে গবেষণা প্রকল্পের অনুদান প্রদান করা হয় তার সঠিক ব্যবহার করার বিষয়ে জোর দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দকে কিউ১ জার্নালে গবেষণা প্রকাশের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে কিউ১ জার্নালে গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি পার্বত্য অঞ্চল তথা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষকদেরকে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণাকে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়ে আলোকপাত করেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিপ্রবি’র গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের জন্য শীঘ্রই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে এবং রাবিপ্রবি‘তে এক-দুই বছরের মধ্যে রিসার্চ হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘সেন্টার অব এক্সিল্যান্স’ হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলের জন্য রোল মডেল হবে- এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, রাবিপ্রবি’তে বেশ কিছু মৌলিক বিষয় (বিভাগ) রয়েছে- যে বিভাগগুলো তাদের গবেষণায় আমাদের কাপ্তাই লেক এবং তিন পার্বত্য জেলার আনএক্সপ্লোরড রিসোর্স (অনাবিষ্কৃত সম্পদ) অনুসন্ধানের জন্য শিক্ষক/গবেষকদের লক্ষ্য রাখতে বলেন। বর্তমান সরকারের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অত্র অঞ্চলের স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, উচ্চ শিক্ষার প্রসার এবং গবেষণার মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ভূমিকা রাখবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কিউ১ জার্নালে বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশনার জন্য রাবিপ্রবি’র মোট ৯ জন শিক্ষকবৃন্দকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মানিত শিক্ষকগণ হলেন- রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির (সোশ্যাল ইকোনমি); সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলম (মাইক্রোওয়েভ সেন্সিং); কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ (এআই ইন হেলথকেয়ার, এগ্রিকালচার এন্ড কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিক) ও সহকারী অধ্যাপক ড. মিঠুন দত্ত (কম্পিউটার প্রোগ্রামিং); ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তালেব (টক্সিকোলজি) ও প্রভাষক মোঃ ছায়েদুল আমিন (ফরেস্ট্রি); ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন (মাইক্রোবিয়াল ইকোলজি) ও প্রভাষক জনাব সিফাতুন নূর (অণুশৈবাল গবেষণা) এবং ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক মোঃ নাফিজ মন্ডল (ট্যুরিজম)।
স্বাগত বক্তব্যে আরআইএমসি সেলের প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন, রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন ম্যানেজমেন্ট সেলের পরিচালক ও ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক ফাহিম হোসেন।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ ফখরুদ্দিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং বিভিন্ন বিভাগের স্নাতকোত্তর ও স্নাতক (তৃতীয় ও চতুর্থ) বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
