দানের মাধ্যমে পুণ্য অর্জন ও সদ্ধর্ম চর্চার প্রসার ঘটে-দীপেন দেওয়ান এমপি

17

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটির ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উপাসনালয় রাজবন বিহারে উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর পরিবেশে বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের ২৬তম মহাসংঘ দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সকালে বন্দুকভাঙা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে বিহার প্রাঙ্গণে হাজারো পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে এই ধর্মীয় মহাসমাবেশ ও দান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।
এসময় তিনি বলেন, দানের মাধ্যমে পুণ্য অর্জন ও সদ্ধর্ম চর্চার প্রসার ঘটে। এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, মৈত্রী ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে। তিনি আরো বলেন, বুদ্ধের দেখানো পথ অনুসরণ করে মানুষের মধ্যে মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চর্চা বাড়াতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তিজীবনে এর শিক্ষা বাস্তবায়ন করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সমবেত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে বুদ্ধের প্রদর্শিত অহিংসা ও করুণার বাণী তুলে ধরে পঞ্চশীল প্রদান করেন, রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ বিহারের জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুরা।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বন্দুকভাঙার কৃতি সন্তান অধ্যাপক আনন্দ বিকাশ চাকমা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমর চাকমাসহ ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দূর-দূরান্তের শত শত পুণ্যার্থী অংশ নেন।
দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকেই রাঙ্গামাটি সদরের বন্দুকভাঙা ইউনিয়ন ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা রাজবন বিহারে সমবেত হতে থাকেন। ধর্মীয় সংগীত, বুদ্ধপূজা এবং সদ্ধর্ম দেশনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
মহাসংঘদান অনুষ্ঠানে বন্দুকভাঙা ইউনিয়নবাসীর পক্ষে দেড় শতাধিক ভিক্ষুকে সদ্ধর্ম অনুশীলনের জন্য সংবর্ধিত ও দান কার্য সম্পাদন করা হয়। দানানুষ্ঠানে পুণ্যার্থীরা পঞ্চশীল গ্রহণের পাশাপাশি শতাধিক সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দান, কল্পতরু দানসহ নানা ধরনের উৎসর্গমূলক দান কার্য সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রদীপ প্রজ্বলন এবং বিশ্বশান্তি ও বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ-সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ শান্তি প্রার্থনা ও উৎসর্গ জ্ঞাপন করা হয়।