॥ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি ॥
রাঙ্গামাটির সাজেক এলাকায় ফেরদৌস চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো প্রচারণার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের একটি টহল দল সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাঁর নিজ বাড়িতে পাওয়ার পর অপহরণের অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সাজেক এলাকা থেকে ফেরদৌস চাকমাকে অপহরণ করা হয়েছে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত বলে দাবি করা কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হয়। এতে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের একটি টহল দল বিষয়টি যাচাই করতে সাজেক ইউনিয়নের উদয়পুর এলাকার ছোট কংলাক এলাকায় যায়। সেখানে ফেরদৌস চাকমার নিজ বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে টহল দলটি। এ সময় তাঁকে স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
সরেজমিন যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘অপহরণ’-এর তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ ও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ের বিদ্যমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে একটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত বড় ধরনের উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এর আগেও ইউপিডিএফ-সমর্থিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন ঘটনাকে ঘিরে নানা ধরনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য ও সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নও উঠেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্যসহ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাজেকে ফেরদৌস চাকমাকে ঘিরে ছড়ানো ‘অপহরণ’ সংক্রান্ত প্রচারণার ক্ষেত্রে সরেজমিনে তাঁর নিজ বাড়িতে উপস্থিতি সেই যাচাই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে যাচাই না করে স্পর্শকাতর কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়ের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
