রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১,৩০০ পরিবারকে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা

33

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের ফলে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার বসতঘর হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিম্নআয়ের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় চরম খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তবলছড়ি এলাকার এডিসি হিলে অবস্থিত ওমদামিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল প্রাঙ্গণে একযোগে ১ হাজার ৩০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. হাবীব আজমের বিশেষ বরাদ্দের অংশ হিসেবে এবং তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিতরণকৃত খাদ্যসামগ্রী দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মো. নুরনবীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তাঁরা আরও জানান, শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ডেই নয়, পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝেও ধারাবাহিকভাবে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।
এদিকে বিপুলসংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতিতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে পুরো ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সুশৃঙ্খল পরিবেশে খাদ্য সহায়তা বিতরণ সম্পন্ন হয়। উপস্থিত উপকারভোগীরা নির্বিঘ্নে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।
খাদ্য সহায়তা গ্রহণকারী পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, পাহাড় ধস ও বন্যার কারণে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের ঘরে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সহায়ক নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে।