॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ধর্মীয় সংগীত গীতাপাঠ, নাম কীর্তন ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে হাজার হাজার ভক্তের অশ্রু সিক্ত আনন্দের মধ্যদিয়ে মাসির বাড়ি থেকে নন্দালয়ে যাত্রা করেছেন জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা। দীর্ঘ ৯ দিন ব্যাপী মাসির বাড়ি অবস্থান শেষে ভক্ত কুলকে কাঁদিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা মা ফিরে গিছেন। সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন আজ এই যাত্রাকে ফিরতী রথযাত্রা বলে আখ্যায়িত করে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে রাঙ্গামাটি রাধা রাসবিহারী ধাম, শ্রী শ্রী গীতাশ্রম ও নানিয়ারচর জগন্নাথ মন্দিরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিন ভর ঠাকুরের ভোগের মাধ্যমে ঠাকুরকে নিবেদন করবে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ। বিকাল ৪ টায় জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা মাকে রথে চাপিয়ে নন্দালয়ে নিয়ে গেছে ভক্তবৃন্দ।
এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরে ফিরতী রথের উদ্বোধন করেন, সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী ও রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এমপি। সাবেক প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন, গীতাশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ তালুকদার, দৈনিক গিরিদর্পন সম্পাদক নন্দন দেবনাথ, স্থানীয় মুরব্বী জসিম উদ্দিন সহ অন্যান্য ধর্ম প্রাণ নর নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফিরতী রথ যাত্রার পৌরহিত্য করেন, করেন শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের পুরোহিত পুলক চক্রবর্তী। উদ্বোধন শেষে শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির থেকে তবলছড়ি গৌর নিতাই মন্দিরে নিয়ে গিয়ে রথ যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।
এদিকে বনরূপা রাধারাসবিহারী ধামের মন্দির থেকে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা মাকে নিয়ে নন্দালয় রাঙ্গাপানি রাধা রাস বিহারী ধামের নিয়ে যাওয়ায় হয়েছে। বনরূপা থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ রথের দরি টেনে ভগবানকে মাসির বাড়ী থেকে নিজ গৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
ফিরতি রথের উদ্বোধন করতে গিয়ে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী ও রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, সকল সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি গোষ্ঠী সব সময় উঠে পড়ে আছে। এই সম্প্রীতির দেশে পাহাড়ী বাঙ্গালী, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সকল সম্প্রদায়ের বসবাস। এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে। তেমনি যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। ধর্ম যার যার হলেও রাষ্ট্র সকলের। এই রাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তিকে মাথা চারা দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না। এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি। উৎসবকে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে উৎসবের আমেজে পরিণত হয়।
