॥ লামা প্রতিনিধি ॥
সাম্প্রতিক বন্যায় পানির স্রোত ও পাহাড় ধসে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সরই ইউনিয়নের অভ্যন্তরীন গ্রামীণ সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য প্রকল্প ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এ টানা বর্ষণে। সব মিলিয়ে টানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরই ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষিখাত মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। দ্রুত সড়ক ও সেতু সংস্কার অথবা বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা করে এ দুর্ভোগ লাঘবের জোর দাবি জানান ইউনিয়নবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবল বর্ষণে সরই ইউনিয়নের কেয়াজুপাড়া বাজারপাড়া থেকে পুলাংপাড়ায় জাতায়াতের একমাত্র সড়কের বেশিরভাগ অংশ ধসে পড়ে। ইট দিয়ে তৈরি সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যাওয়ায় সড়কের পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটিও এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এ খুঁটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিল্লাছড়া-বটতলীপাড়া হয়ে আন্ধারি পাড়ায় যাতায়াতের একমাত্র সড়কের আবুল হোসেন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন ডলু খালের ওপর নির্মিত সেতুটি পানির তোড়ে ধসে গেছে। সেতুর দুপাশ থেকে সরে গেছে মাটি। এতে ওই এলাকার কিল্লাছড়া, বটতলী, ধুমছাপাড়া ও আন্দারি পাড়াসহ ৬ গ্রামের সঙ্গে সম্পূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে ইউনিয়ন সদরের। ২০১২ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারকাযুল উলূম আল-ইসলামিয়া তাহফিযুল কুরআনুল কারীম মাদ্রাসা ও মসজিদটিও। পানির তোড়ে মাদ্রাসার জায়গার মাটি ধসে গিয়ে শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা। শুধু সড়ক বা সেতুই নয়, ঢলের পানিতে তলিয়ে ও ভেসে গেছে সরই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত। ঢলের পানিতে ফসল নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ দিকে কম্পোনিয়া পাড়ার বাসিন্দা মুরর্শিদা বেগম, কালাইয়া পাড়ার মো. রায়হান ও টংগঝিরি পাড়ার জিয়া ত্রিপুরাসহ ১০-১২টি বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে ক্ষতি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডলুছড়ি বাজার পাড়ার বাসিন্দা মো. ইকবাল ও হাছনা পাড়ার জয়নাল আবেদীন জানান, টানা বর্ষণে তাদের মাছের গোধার বাঁধ ভেঙ্গে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরো ৮টির মত মৎস্য খামার ভেঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ সর্দার, নুরুল ইসলাম, আল আমিনসহ অনেকে জানায়, টানা বর্ষনের কারণে পাহড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের একটি খুটি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রবল বর্ষণ স্বাভাবিক হওয়ার পরও ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামতের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে গত কয়েকদিন ধরে চরম দুর্ভোগে আছেন ইউনিয়নবাসী।
এ বিষয়ে সরই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সহকারি তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, পাহাড়ি ঢল, পাহাড় ধস, মৎস্য প্রকল্প, সেতু, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জমা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা হবে।
