॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
সাম্প্রতিক বন্যার ভয়াবহতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে খাগড়াছড়ি। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদ-নদী ও ছড়ার পানি নেমে গেলেও বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষত এখনো স্পষ্ট। অনেক এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কাদায় ভরা বসতভিটা, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল এবং দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা জনজীবনকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দিচ্ছে না।
বন্যাকবলিত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণের সংকট তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও দোকানের ক্ষতি কাটিয়ে ব্যবসা সচল করতে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বন্যা-পরবর্তী সময়ে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনই এখন সবচেয়ে জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু দ্রুত সংস্কার করা হলে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত ফিরে আসবে।
সচেতন মহল বলছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। তাই নদ-নদী ও ছড়ার নিয়মিত খনন, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কীকরণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরী।
