লংগদু-নানিয়ারচর সড়কের স্কাভেটর নষ্ট করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা, কাজের সময় বিশেষ নিরাপত্তার দাবী

146

॥ মো. গোলামুর রহমান, লংগদু ॥
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে হাজারো চেষ্টা করে রাঙ্গামাটি জেলা সদরের সাথে ৩ উপজেলার সংযোগ সড়কের সংযোগ দিতে পারেনি কেউ। লংগদু নানিয়ারচর সংযোগ সড়ক কয়েকবার শুরু হয়েও থমকে গেছে বার-বার।
অনেক আন্দোলন ও শ্রমের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের অনুদানে শুরু হয় সড়কটির মাটি কাটার কাজ। ২০২৫ সালে শুরু হয়ে ৮মাস যাবত চলমান কাজটি লংগদু থেকে নানিয়ারচরে মোটর সাইকেলে যাতায়াতের মত পথ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের কারণে কাজটি কয়েক দিনের জন্য বন্ধ ছিল। স্কাভেটরগুলো নিয়ে রাখা হয়েছে নানিয়ারচর অংশে। নির্বাচনকালীন ছুটি শেষে ড্রাইভার কাজ করতে আসলে ঘটে যায় বিপত্তি। ড্রাইভারগণ এসে দেখতে পায় মাটি কাটার স্কাভেটর দুইটির যন্ত্রপাতি লুট, ভাঙ্গচুর ও ইঞ্জিনে বালি আর পানি ডুকিয়ে অকেজো করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। যা লংগদু, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িবাসীর উন্নয়ন ও স্বপ্নকে তছনছ করে দেওয়ার সামিল।
এবিষয়ে সংযোগ সড়কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠন জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় মাটি কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসে। কিন্তু গতরাতে পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা কোন অদৃশ্য শক্তি চলমান দুইটি গাড়ি অকেজো করে দেয়। এই ধরণের কার্যক্রমের ফলে কাজের শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনসাধারণের মাঝেও বিরুপ মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানান, সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত সময়ে আবারো বাকি অংশের কাজ সমাপ্ত করা হবে।
কাজের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারির দাবী জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অস্থায়ী পোস্ট চেয়ে সহযোগীতা কামনা করেছে।
লংগদু-বাঘাইছড়ির উন্নয়নের প্রবেশদ্বার নানিয়ারচরের রাস্তার কাজে বাধা সৃষ্টি করায় স্থানীয়রা দাবী জানিয়ে বলছেন, দ্রুত সময়ে নানিয়ারচর রাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে হবে, সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙ্গে দিতে হবে এবং দ্রুত সময়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে জনমনে ফিরিয়ে আনতে হবে। লংগদুবাসী জানান দ্রুত সময় রাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে আবারো জনসাধারণকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।