কর্ণফুলী পেপার মিল উৎপাদিত কাগজে তৈরি ব্যালটে আজ ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার ভোট দেবেন

33

॥ কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই ॥
বহুল কাঙ্খিত ও আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে দেশের ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণভোটে হ্যাঁ বা না ভোট প্রদান করবেন। কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাগজ শিল্প কারখানা কর্ণফুলী পেপার মিল উৎপাদিত কাগজে তৈরি ব্যালটে দেশের সকল মানুষ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রদান করবেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য গত বছরের আগস্ট মাসে কর্ণফুলী পেপার মিল থেকে ব্রাউন, সবুজ ও গোলাপী রঙের ৯শ ১৪ মেট্টিক টন কাগজের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছিল বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের ২০ জানুয়ারির মধ্যে কেপিএম কর্তৃপক্ষকে চাহিদানুযায়ী সমুদয় কাগজ কমিশনে পাঠানোর জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। কেপিএম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধাতির সময়ের আগেই চাহিদাপত্র অনুযায়ী সমুদয় কাগজ উৎপাদন করে এবং নির্বাচন কমিশনকে পাঠাতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে।
কর্ণফুলী পেপার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ জানান, নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য ব্রাউন, সবুজ ও গোলাপী রঙের ৯শ ১৪ মেট্টিক টন কাগজের জন্য চাহিদা পত্র দিয়েছিল। ১১ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মূল্যের ওই কাগজ বিগত ২০ জানুয়ারীর মধ্যে কমিশনের কাছে পাঠানোর জন্য সময় নির্ধারন করে দিয়েছিল। কেপিএমের সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারি কর্মকর্তা, সকল বিভাগীয় প্রধান, সিবিএ নের্তৃবৃন্দসহ সংশ্লিস্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়ের ৫ দিন আগে গত ১৫ জানুয়ারি সকল কাগজ নির্বাচন কমিশনের পাঠাতে সক্ষম হয়।
রাঙ্গামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে সমগ্র বাংলাদেশে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটার জাতীয় নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। রাঙ্গামাটি ২৯৯ আসনে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৭ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন বলেও তিনি জানান।
কর্ণফুলী পেপার মিলের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজ সরবরাহ করার জন্য কেপিএমের সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারি ও কর্মকর্তারা অক্লান্ত পরীশ্রম করেছেন। তিনি বলেন কেপিএম ৭২ বছরের পুরাতন কারখানা এবং নানাবিধ যান্ত্রিক ত্র“টি থাকা সত্বেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমরা নির্বাচন কমিশনে কাগজ পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আজকে অনুষ্ঠিবত্য এই জাতীয় নির্বাচনকে কেপিএম কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। যেকারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কাগজ উৎপাদন করে আমরা নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে পেরেছি। কেপিএমের সিবিএ সভাপতি আবদুল রাজ্জাক বলেন, আমাদের উৎপাদিত কাগজে তৈরি ব্যালটে আজ আমরা জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারবো। দেশের ১২ কোটি ভোটার আমাদের তৈরি কাগজে নির্মিত ব্যালটে ভোট দেবেন এটা ভাবতেই আমরা শ্রমিক কর্মচারি ও কর্মকর্তারা আনন্দিত ও পুলকিত অনুভব করছি।