॥ শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে ভ্যান্ডুলা অঞ্চলে সেখানকার দুই বিদ্রোহি সংগঠনের মধ্যে টানা তিন দিন ধরে বন্দুক যুদ্ধে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ভ্যান্ডুলা এলাকা সংলগ্ন আরাকান টিলা নামক ক্যাম্পটি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। এই সংঘর্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)-এর প্রায় ৪০-৫০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৫৬ ও ৫৭ নম্বর সীমান্ত পিলার পার হয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘আরাকান টিলা’ নামক স্থানে অবস্থিত ছিল ভ্যান্ডুলা ক্যাম্পটি। ওই ক্যাম্পে আগে অবস্থান করছিল আরাকান আর্মির আনুমানিক ৭০-৮০ জন সদস্য। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় আরসা ও আরাকান আর্মির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার চূড়ান্ত রূপ নেয় গত তিন দিনে টানা গোলাগুলি ও সংঘর্ষের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীমান্তে গিয়ে বিভিন্ন সূত্রে জানায়, গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং তা সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সময় পুরো এলাকা ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে প্রাণহানির দিক থেকে আরাকান আর্মি বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে জানা গেছে। আরাকান আর্মির প্রায় ৪০-৫০ জন সদস্য এই সংঘর্ষে নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত অবস্থায় পিছু হটেন। অপরদিকে, “আরসার” পক্ষ থেকেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে সেই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিন দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর সোমবার রাতের দিকে ভ্যান্ডুলা ক্যাম্পটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয় আরসা সংগঠনের সদস্যরা। এখন ক্যাম্পটি তাদের দখলে রয়েছে বলে দাবি করেছে আরসার একটি সূত্র।
ভ্যান্ডুলা এলাকায় গোলাগুলির শব্দ প্রায়ই বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়ন এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা অপ্রয়োজনে রাতের বেলায় বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। বর্তমান সীমান্তের পরিস্থিতি সাভাবিক রয়েছে।
