থানচিতে ভাঙ্গনের কবলে শ্রীশ্রী রক্ষাকালি মন্দিরের ভবন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

112

॥ থানচি প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের থানচি উপজেলা সদরে সনাতম ধর্মের জন্য এক মাত্র শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরের নব নির্মিত ভবনটি দুই পাশ্বে মাটি সরে যাওয়া ভাঙ্গনের কবলে আশংঙ্খা করছে। এছাড়া ও ভবনের মূল ফটকের উপরের ছাদ থেকে বৃস্টি পড়ার কারনে টেকসই নিয়ে উদিগ্ন।
জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ণ বোর্ডের ২৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১তলা ভবনের শ্রী শ্রী রক্ষা কালি মন্দির। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনিকা কনষ্ট্রাকশনের নামে কাজটি করেন ঠিকাদার থোয়াইপ্রু অং মারমা ও সাবেক ইউপি সদস্য নব্য আওয়ামীলীগ নেতা উসাইঅং মারমা।
অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, স্থানীয় নদীর বালু, লোকাল পাথর, নিম্নমানের রড ও কম পরিমানে সিমেন্টের ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রয়োজনীয় উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় প্রথম বছরের বর্ষাতেই মন্দিরের ভেতরে ছাদ বেয়ে বিভিন্ন জায়গায় পানি পড়ছে। এছাড়া পেছনের অংশ দেবে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে যারা দূর্নীতি করেছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রী শ্রী রক্ষাকালি মন্দিরে প্রবেশ মূখে সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ থেকে পানি পড়ে কালো দাগ ও প্লাস্টার উঠে গেচ্ছে। মন্দিরে উক্তর দিকে ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে গেচ্ছে এবং পুর্ব দিকেও মাটি সরে যাচ্ছে পশ্চিমে ও মাটি সরে যাইতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষন ও আকস্মিক বন্যায় মন্দিরটি পানিতে উঠেছিল কিন্তু স্থায়ী থাকেনি বন্যা পানির। টানার বৃস্টির কারনে মন্দিরে চতুর দিকে মাটি গুলি নরম হয়ে যাচ্ছে দেখা মিলছে।
যোগাযোগ করা হলে মন্দির পরিচলনা কমিটির সদস্যরা জানায়, আমরা অনেক আপত্তি করেও আমাদের কথা ঠিকাদার শুনাতে পারিনি। স্থানীয় প্রভাবশালীর ব্যক্তি হওয়ায় আমরা অনেক অনুরোধ করেও কোন প্রতিকার পাইনি। ঠিকাদারের শ্রমিক দিয়ে তাদের ইচ্ছেমত সিমেন্ট, নিম্নমানের বালু, নিম্নমানের রড ও সবকিছু পরিমানে কম দিয়ে আমাদের কালী মন্দিরটি নির্মান করেছে। আর তাই এক বছর না হতেই মন্দিরের ভেতরে প্রথম বর্ষাতেই পানি পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া মন্দিরের পিছনের অংশ দেবে যাওয়ায় মন্দিরটি যে কোন মূহুর্তে ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করছেন তারা। এসময় তদন্ত করে এসব ঠিকাদারের শাস্তির দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে মন্দির পরিচলনা কমিটি সাবেক সভাপতি মৃনাল কান্তি দাশ বলেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও মানুষ দূর্নীতি করতে পারে তা আমার জানা ছিলনা। এসব ঠিকাদারদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
গীতাস্কুলের শিক্ষক পলাশ ধর বলেন, আর্কষণীয় রং দিয়ে ফিটফাট করলেও ভিতরে একদমই সদরঘাট। এ নব নির্মিত সার্বজনীন কালী মন্দিরের ভবনের টেকসই ও স্থায়ীত্ব নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন তিনি।
এ বিষয়ে তদন্ত করে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সার্বজনিন কালীন মন্দির পরিচালনা কমিটি সাবেক সভাপতি পলাশ মল্লিক, সাবেক সা: সম্পাদক লিটন চৌধুরীসহ ধর্মপ্রাণ আরো অনেকেই।
জানতে চাইলে এসব বিষয় অস্বীকার করে ঠিকাদার থোয়াইপ্রু অং মারমা বলেন, মন্দিরের মধ্যে কোন সমস্যা হয়নি। সবই ঠিক আছে। কাজের মানও ভাল হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ণ বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো: ইয়াছির আরাফাত বলেন, তাদেরকে আমরা কয়েকবার অনুরোধ করেছি কাজটি সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করার জন্য। আমরা মন্দিরটি পরিদর্শণ করে তদন্ত পূর্বক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।