খাগড়াছড়িতে জেএসএসের ১৩ তম জাতীয় সম্মেলনঃ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে হতাশ জেএসএস নেতারা

31

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ-পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি তথা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত প্রতিক্রিয়াশীল, সুবিধাবাদী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলুন” এ শ্লোগানে খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির ১৩তম জাতীয় সম্মেলন-২০২৩ শুরু হয়েছে।
রবিবার (২৮ মে) সকাল ১০টায় পানখাইয়াপাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদ প্রাঙ্গনে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি বিভুরঞ্জন চাকমা আর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ১৩ তম জাতীয় সন্মেলন উদ্ধোধন সন্মেলনের প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা করা হয়।
এতে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল এ চুক্তি দীর্ঘ সময়েও বেশির ভাগ ধারা পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ সময় বক্তারা চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরো বলেন, হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় এই চুক্তি বাস্তবায়নের যে আশা-সম্ভাবনা সেটা আমরা দেখছিনা। তাই চুক্তি বাস্তবায়নে তরুণ সমাজকে নতুন আশা-আকাঙ্খা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে অনেকগুলো মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। এখানে বিশেষ শাসন ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে আরও অনেক কিছু সংযোজনের প্রয়োজনও আছে।’ তবু পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী অধিবাসীদের জন্য ৩ জেলা পরিষদ এবং আঞ্চলিক পরিষদ আইনের মধ্য দিয়ে দেওয়া বিশেষ শাসনের মধ্য দিয়ে যতটুকু অধিকারের স্বীকৃতি এখানে আছে, সেটুকুই আদায় করে নেওয়ার আহব্বান জানানো হয়।
সন্মেলনের প্রথম অধিবেশনে জেএসএস বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিভু রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরার সঞ্চলনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অংশুমান চাকমা।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুজন চাকমা ঝিমিট, যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রিয়দর্শী চাকমা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আনন্দ মোহন চাকমা, জুম্ম শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, জেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি রবি শংকর তালুকদার, বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সন্মেলনের প্রধান অথিতি সুভাষ কান্তি চাকমা বক্তব্য রাখেন।
এতে মঞ্চে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা, জেএসএসের বিদায়ী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক কাকলী খীসা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আইন বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমাসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২৮,২৯ ও ৩০ তিন দিন ব্যাপী জাতীয় সম্মেলনে প্রতিনিধি ১৫০ জন ও পর্যবেক্ষক ২৮০ জন অংশ গ্রহন করার কথা রয়েছে। এ সম্মেলনে সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নেন।