মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলীঃ-রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলাধীন ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের আমতলি পাড়ায় গত ৪ ডিসেম্বর অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসীদের অপহরণের শিকার রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিনকে ২৩ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।
ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে টানা দুইদিন রাঙ্গামাটি বান্দরবান সড়কে বাঙ্গালহালিয়ার তিনটি সড়কে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী পালন করে আসছিলো স্থানীয়রা। সচেতন নাগরিক পরিষদের ব্যানারে একের পর এক কর্মসূচী ও আল্টিমেটাম দেওয়ার পরেও ছাত্রনেতা সালাউদ্দিনকে সন্ত্রাসীরা মুক্তি না দেওয়ায় এবং সালাউদ্দিনকে উদ্ধারে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ করছেন অপহৃতের পরিবার।
৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা জানিয়েছেন, আমরা সালাউদ্দিনকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট্যদের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছি। অপহরণের পর থেকেই তার সন্ধানে আমরা বিভিন্নভাবে খোঁজে আছি, এখনো পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছেনা।
অপর দিকে অপহৃত সালাউদ্দিনের বড় ভাই রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফোরকান জানিয়েছেন, আমার ভাইকে উদ্ধারে প্রশাসনের ব্যর্থতা অবশ্যই রয়েছে। তারা এখনো পর্যন্ত আমার ভাইয়ের ব্যাপারে আমাকে কোনো নির্দিষ্ট্য তথ্য দিতে পারেনি। যেকোনো উপায়ে আমার ছোট ভাইকে আমরা ফেরত চাই।
এদিকে এই অপহরণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সর্বস্থরের জনসাধারন আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। এ বিষযে বাঙ্গালহালিয়া ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি পুলক চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেএসএস এর সন্ত্রাসীদের কাছে আমরা কেউই নিরাপদ নই। সব সময় পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়কে হুমকি ধুমকি দিয়ে আসছে। ইতিপূর্বে পদুয়া এলাকার স্থানীয় শফিক নামে একজন গরু ব্যবসায়িকে তুলে নিয়ে গেছে তার লাশটি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত পাহাড়ে বেছে বেছে আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন, গুমসহ অপহরণ করে ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস এর অস্ত্রধারীরা।
ছাত্রনেতা সালাউদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে গঠিত বাঙ্গালহালিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক মিলন জানিয়েছেন, সন্তু লারমার জেএসএস এর সন্ত্রাসীদের হাতেই অপহরণের শিকার হয়েছে। তিনি জানান, জেএসএস সন্ত্রাসীদের অব্যাহত চাঁদাবাজি, অপহরনসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণ চরম নির্যাতনময় পরিবেশে বাস করছে। তাই বাধ্য হয়েই সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করে ছাত্রনেতা সালাউদ্দিনকে উদ্ধারের আন্দোলনে নেমেছি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচীর দিকে ধাবিত হবো।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপহৃতকে উদ্ধারে সম্ভাব্য সকল প্রকার তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, রাজস্থলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন। তিনি জানান আমরা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সাথে নিয়ে একাধিক অভিযান পরিচালনা ইতিমধ্যেই করেছি। সকল প্রকার প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে আমরা আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি।
নিখোঁজ সালাউদ্দিন রাজস্থলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত মজিবুর রহমানের চতুর্থ ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফোরকান হোসেন মুন্নার ছোট ভাই।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর রাজস্থলী উপজেলার ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন আমতলী পাড়া নামক এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক দিন আগে নাগরিক কমিটির ব্যানারে দুইদিন হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করা হয়েছে।
