কাল দীর্ঘ প্রতিক্ষিত রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনঃ নেতৃত্বের নতুন চমক নাকি পুরনোয় আস্থা

41

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটিঃ-দীর্ঘ ১০ বছর পর রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল। এর আগে ২০১৯ সালে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি শেষ করার পরও সম্মেলনের পাঁচদিন আগে স্থগিত হওয়ার পর ফের দুইবছর পেরিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন দুজন করে।
এবার সভাপতি পদে লড়ছেন ১৯৯৬ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বর্তমান সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও সহ সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা। সাধারন সম্পাদক পদে লড়ছেন বর্তমান সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা এবং সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী কামাল উদ্দিন। আর ২৪৬ জন কাউন্সিলর ভোটেই সম্ভবত নির্ধারন করবেন পরবর্তী নেতৃত্ব।
এদিকে, রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়াচ্ছে উত্তাপ; নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনতা পর্যন্ত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ঘুরেফিরে একটাই আলোচনা, কারা আসছে নতুন নেতৃত্বে। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েই সবার আগ্রহ। দলটি একদিকে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী এবং অন্যদিকে সরকার ক্ষমতায়। তাই সম্মেলনকে ঘিরে বেশ সরগরম চারদিক। কারা নতুন নেতৃত্বে আসলে জেলা আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে এসব নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
আর সবার মুখে মুখে কে হচ্ছেন রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক? নাকি পুরনো কমিটিতে আস্থা রাখবেন দলের কাউন্সিলরা। এ নিয়ে নানান ছক কষছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।
এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা বিভিন্ন উপজেলা সফর করে কাউন্সিলরদের মন জয় করতে চষে বেড়িয়েছেন মাঠে। নিজে যেতে না পারলেও প্রতিনিধি পাঠিয়ে কাউন্সিলরদের মন জয় করতে উপজেলায় সফল করেছেন। জেলা শহরেও তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এ নিয়ে রাঙ্গামাটির রাজনীতি তুঙ্গে।
এইবারের কাউন্সিলে আওয়ামীলীগের ২৪৬ জন কাউন্সিলর সরাসরি ভোট প্রয়োগ করে তাদের পছন্দের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন। এই ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর কাউন্সিলররা তাদের প্রিয় নেতৃত্ব বেছে নিবেন। ভোটারদের মন মর্জির উপর নির্ভর করছে কে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হবেন।
এদিকে, সেই ১৯৯৬ সাল থেকে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে একটানা পাহাড়ের অবিসংবাদিত নেতা বা পাহাড়ের দাদা খ্যাত দীপংকর তালুকদার আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার এসময়কাল অনেক সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হলেও তার জন্য সভাপতির পদটি অটুট থেকে গেছে।
এইবারের কাউন্সিলে তিনি আবারো সভাপতির পদে লড়াই করছেন। পূর্বে তিনি লড়াই ছাড়া জয়ী হলেও এইবার যুদ্ধের ময়দানে তাকে সরাসরি অবতীর্ণ হতে হচ্ছে তার শিষ্য নিখিল কুমার চাকমার সাথে। একটি ভুলে তার পদটি হারিয়ে যেতে পারে।
কারণ নিখিল কুমার চাকমা তার এক সময়কার শিষ্য হলেও এই শিষ্য এখন অনেক বড় হয়েছে। দাদার আর্শিবাদপুষ্ট নিখিল এক সময় পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
যোগ্যতা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে নিখিল, দাদা দীপংকরের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে অনুজ হলেও এইবারের কাউন্সিলে তাকে ভোটযুদ্ধে শক্ত প্রতিপক্ষ ভাবতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আলোচনার কমতি নেই। এত বছর সম্পাদক পদ নিয়ে আলোচনা থাকলেও সভাপতির পদটি নিয়ে লড়াই সামনে আসায় এ পদের লড়াইটা কিছুটা চাপা পড়েছে।
এবারও এ পদে লড়াই করছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী কামাল উদ্দিন ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। রাজনৈতিক অঙ্গনে গতবার কাউন্সিলে হাজী কামালকে হারিয়ে মুছা সাধারণ সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নেন।
তবে যারাই নেতৃত্বে আসুক তাদের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিমুখী পুরনো লড়াইয়ে মেতে উঠতে হবে। সামনে নির্বাচনে মহা চ্যালেঞ্জ পার করতে হবে। পাহাড়ের রাজনীতিতে বিএনপি আওয়ামীলীগের জন্য কোনকালে মাথা ব্যাথার কারণ ছিলো না। দলটির প্রধান প্রতিপক্ষ সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস। পাশাপাশি পাহাড়ের আরও কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠনের স্বশস্ত্র অস্ত্রধারী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাই রাজনৈতিক মারপ্যাচের খেলায় আওয়ামীলীগকে টিকে থাকতে হলে যোগ্য, বিজ্ঞ এবং সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।