খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ-মারমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন ধারা অতি সুপ্রাচিন বৈচিত্রপূর্ণ এবং আকর্ষনীয়। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রথা, খেলাধুলা, পোশাক-পরিচ্ছদ, গান, বাঁজনা, উৎসব অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধশালী ছিল মারমাদের। বর্তমানে মারমা সমাজে বৈচিত্র্যময় কৃষ্টি ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে মারমা সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ধরে রাখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মারমা শিল্পী গোষ্ঠী সার্বিক সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি মারমা উন্নয়ন সংসদ সদর শাখা আয়োজনে মারমা কমিউনিটি সেন্টারে সুস্থ্য সংগীত সুন্দর জীবন এই প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে নবগঠিত মারমা শিল্পী গোষ্ঠী অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিল্পী নিয়ং মারমা সঞ্চালনায় খাগড়াছড়ি মারমা উন্নয়ন সংসদ সদর শাখা সভাপতি আখইঞো মারমা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি মারমা উন্নয়ন সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী। মারমা উন্নয়ন সংসদে উপদেষ্টা অংশি মারমা, মারমা উন্নয়ন সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি সহ সভাপতি ক্যজরী মারমা, জেলা পরিষদে জনসংযোগ কর্মকতা চিংলামং চৌধুরী, শিল্পী কংচাইরী মারমাসহ সুশীল সমাজে গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এক সময় বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে পাড়ায় পাড়ায় যুবক-যুবতীরা রাতভর ‘দ’ খেলায় মাতোয়ারা থাকতোএ যাত্রাপালা অনুষ্ঠানে মারমা মহিলা-পুরুষ সম্মিলিতভাবে বাজনার তালে তালে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের ভালমন্দ দিক তুলে ধরা হতো। একই ভাবে রামা মঃনং ওয়াসাইন্ডা, ককানু, মংচাইন্দা, থাম্রা প্রভৃতি পালা গান, লুংদি, ক্যাপা, রদু, মাখ্রাং ইত্যাদি লোকগীতির কথা এখন নতুন প্রজন্ম জানেও না। নিজস্ব সামাজিক সংস্কৃতি গুলো নতুন প্রজন্মদের মাঝে বিকাশ ঘটানোর জন্য এবং ধরে রাখারজন্য কাজ করে যেতে হবে।
অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নব গঠিত মারমা শিল্পী গোষ্ঠী সংগঠনে শিল্পী অংচাইরী মারমা সভাপতি এবং শিল্পী আরেমং মগ সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
