খাগড়াছড়িতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে পুষ্প স্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন

342

খাগড়াছড়িঃ-মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবস শুধু দিবস নয় এই দিবসকে ঘিরে ইতিহাসে বিচরিত এক বিশাল পাতায়। যে কথা লেখতে গেলে কলমের কালি ফুড়িয়ে যাবে কিন্তু তার পড়ে কাহিনী রয়ে যাবে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যখন স্বাধীনতারপূর্ব বাংলাদেশের রাজনীতি পঞ্চাশের দশক ছিল অসাম্প্রদায়িক জাতীয় চেতনা বিকাশের কার আর ষাটের দশক ছিল জাতীয় চেতনা বহিঃপ্রকাশের প্রচেষ্টা। বাংলা ভাষা সংস্কৃতির প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরূপতা এবং রবীন্দ্র বিরোধিতা যত প্রবল হয়েছে, ততই বাঙালিদের মধ্যে প্রতিবাদ চেতনা ও জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরালোভাবেই উন্মোষ ঘটতে থাকে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদি চেতনার স্বায়ত্তশাসনের জন্য সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণার এবং এর সমর্থনে ৭ জুন দেশব্যাপী হরতাল ডাকেন। পরবর্তীকালে ৬ দফা ছাত্র সমাজের ১১ দফার অন্তর্ভুক্ত হয়ে ৬৯ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দাবির অংশ হয়। অবশেষে ১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত বিলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন দেশ যেখনা রয়েছে চারপাশে সবুজের ভরা ও মধ্য স্থানে লাল রংঙের পতাকা তুলে দেশ গড়ে তুলতে পেড়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি দেশি বিদেশি অপশক্তি রোধ করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু বাঙালির লড়াকু মনোভাবের কারণে তারা তা পারেনি। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ কোনদিনই বাঙালির অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।
পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ভোরের প্রতূষে একত্রিশবার টোপধনি মধ্যে দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা ও যথাযথ মর্যাদায় খাগড়াছড়ি শহরে চেঙ্গী স্কোয়ারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি ফলকে পুষ্প স্তবক অর্পণ মধ্যদিয়ে শহীদ মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। খাগড়াছড়ি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংঙ্গে নিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি পুষ্প স্তবক অর্পন করে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান। এর পর শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধরী, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা পুলিশ সুপার মোহা: আহমার উজ্জামান পিপিএম সেবা, এপিবিএন বিশেষ সাহিত্য ট্রেণি সেন্টার কমান্ড্যোন্ট আওরঙ্গজেব মাহবুব, পৌর মেয়র রফিকুল আলম সহ সদর উপজেলা প্রশাসন, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, খাগড়াছড়ি বন বিভাগ, খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং সরকারি, বেসরকারি হাইস্কুল, প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষক শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগ, সহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা ও নেত্রীসহ দলীয় সদস্যগণ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, পুষ্প স্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
এরপর খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে বিভিন্ন সরকারি, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কুচ কাওয়াজ, শরীর চর্চা প্রর্দশনীর করে থাকে। সকালে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
বাদ যোহর জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে এবং মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আত্মদানকারী, যোদ্ধা হত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, বৌদ্ধ বিহার ও উপসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিম খানা, ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
বিকেলে খাগড়াছড়ি লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে মহিল্লাদের আলোচনা সভা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলা হয় এবং সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি টাউন হলে জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমানে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি সর্বোত্তম ব্যবহার শীর্ষক আলোচনা, সিম্পোজিয়াম এবং পুরস্কার বিতরণ আয়োজন করা হয়।