পানছড়িতে নীতিমালা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে কৃষি জমি

690

পানছড়িঃ-খাগড়াছড়ি পানছড়িতে চেঙ্গী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। বালু উত্তোলন করার পাইপ পাকা রাস্তার উপর অপারিকল্পিত ও সরকারী কোন অনুমোদন না নিয়েই রাস্তায় ভিট বানিয়ে পাইপ নেওয়াতে প্রায়ই ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা দিনে কিংবা রাতে। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে স্থানীয় এলাকাবাসি আতঙ্কিত হলেও রহস্যজনক কারনে প্রশাসন নিরব। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ দর্শকের ভূমিকায় চুপচাপ থাকা নীতিমালা একটি কাগুজি আদেশে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেঙ্গী নদী পানছড়ি উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের উওর শান্তিপুর সুতা কর্মাপাড়া এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলন। নদীর জলধারা থেকে ড্রেজিং করে যেভাবে বালু উত্তোলন চলছে তাতে ওই স্থানে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে চেঙ্গী নদীর দু,পাশ ভাঙ্গনসহ কৃষি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের রহস্যজনক নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলে। তারা এ অনিয়ম রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত অভিযান কামনা করেন।
বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প, ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধম্যে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অনান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে অথবা আবাসিক এলাকা হইতে সর্বনির্ম্ম ১ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু পানছড়ি বালু উত্তোলনের বিষয়টি ভিন্ন। বসতবাড়িকে ঘিরেই চলছে বালু উত্তোলন। প্রশাসন দেখেই যেন না দেখার ভান করে আছেন। বলা বাহুল্য এ আইন প্রয়োগ ও প্রতিপালনের কোনো উদ্যোগ নেই এখানে। ফলে বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া।
পানছড়ি উত্তর শান্তিপুর সুতা কর্মা পাড়া এলাকায় বালু উত্তোলনকারী উত্তম দে জানান, আমি পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নিয়েছি। পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলামের সাথে মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উওোলনের সর্ম্পকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, মেশিন দিয়ে বালু উওোলনের জন্য আমরা কাউকে অনুমতি প্রদান করিনী তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লকের কাজ করবে মর্মে হয়তো বালু উওোলন করা হচ্ছে আপনারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেন। খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে বারবার গিয়েও দেখা মিলেনী প্রকৌশলীর।
পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত পরিচালক ঢাকা মোঃ শামসুল করিমের সাথে মুটোফোনে কথা বললে তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাউকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে পারেনা। বালু উত্তোলনের অনুমোদন একমাত্র জেলা প্রশাসক দিতে পারেন। তবে খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবছার বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দিয়েছে কিনা আমি জানিনা।
এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসকে মুটোফোনে পানছড়িতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেন, পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।