কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাইঃ-কাপ্তাই উপজেলার লোকালয়ে বন্য হাতির হানা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আগে রাতের অন্ধকারে বন্য হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করলেও বর্তমানে দিন দুপুরে হাতি লোকালয়ে এসে পড়ছে। হাতির ভয়ে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রয় থমকে গেছে। কাপ্তাই উপজেলার নেভী রোডে গত এক বছরে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর নেভী রোডের ফরেষ্ট কলোনীর বন বিভাগের রেষ্ট হাউজে শিপন নামক এক যুবক বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সুত্র জানায় কয়েক বছর আগে বন্য হাতি কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম এবং রাইখালী ইউনিয়নের গভীর অঞ্চলে হানা দিত। দলে দলে বন্য হাতি নেমে ধানের খেত, কলার বাগান, কাঁঠাল, আম, আনারস ইত্যাদি সাবাড় করে দিত। সেই সাথে সব কিছু তসনস করে দিত। কিন্তু বর্তমানে বন্য হাতি তার বিচরণ ক্ষেত্র পরিবর্তন করেছে। বন্য হাতি এখন নেভী রোডে অবস্থান করছে। নৌ বাহিনী এবং সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানান পদক্ষেপ নিয়ে বন্য হাতি গভীর জঙ্গলে তাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করা হতো। কিন্তু বন্য হাতি এখন আর গভীর জঙ্গলে যেতে যায় না বলে জানা গেছে।
নৌ বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্য হাতি প্রায় সময় তাঁর স্কুল ও কলেজের বাউন্ডারীর মধ্যে প্রবেশ করে। হাতির দল স্কুল বাউন্ডারীর অনেক ক্ষতি করেছে বলেও তিনি জানান। কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জুনায়েত কাউছার জানান তাঁর অফিস কাম বাস ভবনেও বন্য হাতি প্রবেশ করে থাকে। বন্য হাতির আক্রমণের ভয়ে সবাই তটস্থ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বন উন্নয়ন কমিটির এক সভা গত ২১ অক্টোবর কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেলের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় কমিটির সকল সদস্য বন্য হাতির আক্রমণের কথা জানান এবং হাতির কবল থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানান।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বন্য হাতির কোন ক্ষতি সাধন করা যাবেনা। যে কোন উপায়ে বন্য হাতিকে গভীর বনে তাড়িয়ে নেবার পরামর্শ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। বন্য হাতি মানুষের ক্ষতি করলেও হাতির কোন ক্ষতি করা যাবেনা বলে আইনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান মূলত খাদ্যের সন্ধানে বন্য হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে গভীর জঙ্গলে হাতির খাবার উপযোগী গাছপালা লাগানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রদক্ষেপ সম্পন্ন হলে গভীর জঙ্গলে পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাবে। আর তখন বন্য হাতি আর লোকালয়ে আসবেনা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যপারে সর্বস্তরের জনগণকে ধৈর্য্য ধরারও তিনি পরামর্শ দেন।
