রুমার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মেডিকেল আউটরিচ ক্যাম্পের স্বাস্থ্যসেবা পেলেন ৪৬৫ জন

18

॥ রুমা প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় একদিনব্যাপী মেডিকেল আউটরিচ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগষ্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুল্লাহ আল হাসান এর তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গ্রিন হিলের যৌথ উদ্যোগে এবং মোমেন্টাম ইন্টিগ্রেটেড হেলথ রেজিলিয়েন্স (এমআইএইচআর) প্রকল্প -এর সহায়তায় শুক্রবার (১ আগস্ট) গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের কুরাং বাজার এলাকায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পের মাধ্যমে গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের পালে পাড়া, মেনেকলা পাড়া, লংবাইং পাড়া, লাংত পাড়া, সিঙ্গছে পাড়া, ভালুক পাড়া, থকের পাড়া, কুমড়া পাড়া, মেনেলং পাড়া, মেনসিং পাড়া, রিয়ামানাই পাড়া ও সুইতং পাড়াসহ মোট ১২টি দুর্গম পাহাড়ি গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং গ্রিনহিলের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর, মিডওয়াইফ ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা সেবা প্রদান করছেন। এসময় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৭১ জনকে হাম, ম্যালেরিয়া টিকাসহ বিভিন্ন ধরনের টিকা প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকেরেমাক্রী প্রাংসা ৩নং ওয়ার্ডের দুর্গম বাশিরাম পাড়া ও হাস্তরাং পাড়া এর হাম টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই মেডিকেল টিম এখনো রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নে দুর্গম এলাকায় রয়েছেন। আউটরিচে এই মেডিকেল টিম আসলে ওই এলাকা কতজন হাম রোগীকে টিকা দেয়া হয়েছে সে তথ্য জানা যাবে।
মেডিকেল টিমের সদস্যরা জানায় গালেঙ্গ্যায় দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে মোট ৪৬৫ জন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১০৯ জন সাধারণ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এছাড়া ৯ জন গর্ভবতী মা প্রসবপূর্ব (এএনসি) এবং ২ জন প্রসূতি মা প্রসব-পরবর্তী (পিএনসি) সেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি ২৩ জনের ম্যালেরিয়া পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং ৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ আউটরিচ ক্যাম্পের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও রোগ নির্ণয় কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।