রাঙ্গামাটির ব্রাক্ষ্মণটিলায় রাতের আধারে ৮শত পেঁপে গাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা

67

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটির ব্রাহ্মণটিলা এলাকায় রাতের আঁধারে একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০টি পেঁপে গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বাগান মালিকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে শহরের পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গাপানির নোয়াদাম ব্রাক্ষনটিলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বাগান দেখাশোনা শেষে রাতে বাড়ি ফেরেন বাগান মালিক। পরদিন সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সারি সারি পেঁপে গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। বাগানের বিভিন্ন অংশে গাছ কাটার চিহ্নও দেখা যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় দীর্ঘদিনের শ্রম ও বিনিয়োগ।
বাগানের কেয়ারটেকার মো. জাহিদ বলেন, রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাগানে গিয়ে দেখি বিপুল সংখ্যক পেঁপে গাছ কেটে ফেলা রাখা হয়েছে। যেসব গাছ কাটা হয়েছে, সেগুলোর পেঁপে আগামী এক মাসের মধ্যেই বাজারে বিক্রি করার কথা ছিল।
বাগানের ভূমি মালিক আহমদ ফজলুর রশিদ সেলিম বলেন, খলিল নামের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে প্রায় এক একর জমি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ করেছি। সেখানে তিনি প্রায় এক হাজার ৮০০টি পেঁপে গাছ রোপণ করেন। এর মধ্যে যেসব গাছে সবচেয়ে বেশি পেঁপে ধরেছিল, বেছে বেছে সেই ৮০০টি ফলবান গাছই কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
বাগান মালিকের দাবি, পরিকল্পিতভাবে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা বাগানে প্রবেশ করে প্রায় ৮০০টি পেঁপে গাছ কেটে দেয়। এতে তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শুধু গাছের ক্ষতিই নয়, সামনে এসব গাছ থেকে যে আয় হওয়ার কথা ছিল, সেটিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, উৎপাদিত ফসল ও বাগান এভাবে নষ্ট করা হলে কৃষিতে আগ্রহী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে বাগানের গাছগুলো কেটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।