॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
মাটিরাঙ্গার যামিনীপাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহলদলের সঙ্গে সশস্ত্র চোরাকারবারীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে ৪টি অবৈধ অস্ত্র, ১৪ রাউন্ড অ্যামুনিশন, ৫ রাউন্ড এফসিসি এবং ১,৬০০ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ খালিদ ইবনে হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিকদল তবলছড়ি ইউনিয়নের দেওয়ানবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সিংহপাড়া সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে আনুমানিক রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র চোরাকারবারী দল আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাকপ্যাক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যাকপ্যাক থেকে ১টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ১টি ৯ মি.মি. পিস্তল, ২টি ১২ বোর এলজি পিস্তল, ১৪ রাউন্ড অ্যামুনিশন, ৫ রাউন্ড এফসিসি এবং ১,৬০০ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র চোরাকারবারী দল বিজিবি আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা জবাব দেয়। প্রায় ৮-১০ মিনিট থেমে থেমে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লেঃ কর্নেল মোঃ খালিদ ইবনে হোসেন বলেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।
