॥ সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি ॥
রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা ও বৃক্ষ রোপণ করা হয়।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাস্তবায়িত “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এদিবসটি আয়োজন করা হয়।
এ আলোচনা সভায় দুলুছড়ি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় মহিলা কাব্বারী মানসী চাকমার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে প্রকল্পের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার তুহিন চাকমা, কেরতকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন চাকমা, পাড়াবন সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি চিরঞ্জীব চাকমা, সাধারণ সম্পাদক নব জীবন চাকমা, উপজেলা বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর রোমল চাকমাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার তুহিন চাকমা জানান, “পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উদ্যোগ সফল হবে না। তাই আমরা বননির্ভর দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ হাজার ৫শ বন ও প্রকৃতি নির্ভর পরিবারকে বিকল্প আয়বর্ধক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বন্ধু চুলা বিতরণ, নারীদের প্রশিক্ষণ, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে প্রচারণা এবং স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরির কাজও চলছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তরুণ পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় মহিলা কাব্বারী মানসী চাকমা বলেন, “একসময় মানুষ অসচেতনতার কারণে হরিণ, পাখিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার করত। এখন মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শিখছে— বন ধ্বংস হলে আমাদের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।”
পাড়া বনের সভাপতি চিরঞ্জীব চাকমা বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে অবৈধ বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষ এখন বনের প্রাণীদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসছে।
দুলুছড়ি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দলের সভাপতি মিলোবো চাকমা বলেন, “আমরা নিজেরাই বন পাহারা দিই। কেউ যেন অবৈধভাবে গাছ কাটতে বা প্রাণী শিকার করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখি।”
স্থানীয়দের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পাহাড় রক্ষায় মানুষের মানসিক পরিবর্তনও জরুরি। কারণ বন বাঁচলে পাহাড় বাঁচবে, পাহাড় বাঁচলে টিকে থাকবে ঝিরি-ঝরনা, বন্যপ্রাণী ও মানুষের জীবনযাপন।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে জুরাছড়ি, বরকল, কাপ্তাই, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, নানিয়াচর, কাউখালিতে দিবসটি পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তা কামনা শীষ খীসা।
