॥ মো.গোলামুর রহমান, লংগদু ॥
রাঙ্গামাটির লংগদুতে গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনারগাঁও ৩নং ওয়ার্ডের আজিজুল এর স্ত্রী হাফসা (২২) ও তিন বছরের ছেলে সন্তান হারানোর আজ প্রায় এগারো দিন পার হলেও এখনো কোন খোঁজ মিলেনি তাদের। এবিষয়ে হারানোর দু দিন পর লংগদু থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন স্বামী আজিজুল।
সরজমিনে আজিজুল এর বাড়ি গিয়ে আজিজুল ও তার পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার ৮মে বিকালে গৃহবধূ হাফসা ও তার ছেলে সন্তান বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি তাদের।
আজিজুল জানায়,ঐদিন বিকালে আমার ভাবিকে নিয়ে আমি চৌমুহনী বাজারে ডাক্তারের কাছে যাই। সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ এর দিকে মা ফোন করে বলে আমার স্ত্রী বাসায় নাই। পরে আমরা সবাই খোঁজাখুঁজি করি কোথাও পাইনা। পরের দিনও খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরের দিন আমরা থানায় জিডি করি। তবে বিষয়টি মেয়ে পরিবারকে জানায়নি আজিজুল ও তার পরিবার। পরের দিন থানা পুলিশের মাধ্যমে মেয়ে পরিবার জানতে পারে তাদের মেয়ে তিন বছরের সন্তান সহ নিখোঁজ রয়েছেন। কেন জানায়নি এমন প্রশ্নে আজিজুল বলে, আমার সাথে তাদের পরিবারের সাথে মামলা ও দ্বন্দ্ব চলমান, তাই রাগ করে তাদের জনানো হয়নি। তিনি জানান আমি সম্ভব্য সকল জায়গায় গিয়েছি এখনো যাচ্ছি কোথাও কোন খোঁজ পাচ্ছিনা। পুলিশ তদন্তে আসছিলো তারাও বিষয়টি দেখতেছেন।
মেয়েটি পালানোর আগের দিন পায়ে ব্যাথা অবস্থায় হাঁটাচলা করছিলো এমন প্রশ্নে আজিজুল জানায়, ঘরের আড়া থেকে বাটাম নামাতে গিয়ে বাটাম তার পায়ে পড়ে যায়,তখন সে ব্যাথা পায়। আপনার স্ত্রীকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন প্রশ্নে আজিজুল স্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আমর স্ত্রী একটা মামলা করে সেই মামলা কিছুদিন আগে আপোষ হওয়ার পর থেকে আর কোন জামেলা আমাদের মাঝে ছিলোনা। এদিকে আমার স্ত্রীর ভাই আমর বিরুদ্ধে একটা মামলা করেছে। আমরাও একটা মামলা করেছি তাদের বিরুদ্ধে। এগুলে মিমাংসা হওয়ার জন্য আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম। এর মাঝেই আমার স্ত্রী বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েগেছে।
এবিষয়ে মেয়ের বড় ভাই আক্কাস আলি জানায়, আমার বোনকে বিয়ের পর থেকেই তারা নির্যাতন করে আসছে। অনেক বিচার শালিস করেও রেহাই পায়নি আমার বোন। বোনের ওপর নির্যাতন দেখে আমি বাদী হয়ে একটা জিডি করি থানায়, সেই জিডি আদালতে মামলা হয়। আর এরপর তারাও আমাদের নামে মামলা করে এসব উঠানোর জন্য বারবার আমার বোনকে চাপ দেওয়া হচ্ছিলো। গত শুক্রবার না কখন আমার বোন হারাইছে আমরা জানিনা। আমাদেরকে থানা থেকে ১১ তারিখ ফোন করে জানিয়েছে যে আপনার বোনকেতো পাওয়া যাচ্ছেনা সন্তান সহ। তখন আমরা জানতে পারি যে আমার বোন হারিয়ে গেছে। এরপর থেকে দিশে হারা হয়ে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতেছি কোথাও পাইনি।এখনো কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা।আমরা জানিনা সে কোথায় আছে কি ভাবে আছে। হারানোর পর বোনের স্বামী নিজেই আবার থানায় জিডি করেছিলো। তাদের পরিবার থেকে এখনো পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা ধারণা করছি তারাই আমার বোনকে লুকিয়ে অথবা গুম করে রেখেছে। কারণ আমি যে মামলা করেছি এই মামলা উঠানোর জন্য বোন জামাই আমার বোনকে বারবার চাপ দিচ্ছিলো। আমরা প্রশাসনের নিকট দ্রুত আমার বোন ও তার সন্তানকে পাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর আগেও গুলশাখালীতে হত্যা গুম সহ এধরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবী দ্রুত সময়ে গৃহবধূ ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে এলাকায় শান্তি ফেরানো হোক।
লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া বলেন, স্বামীর পক্ষ হতে থানায় একটি জিডি করা হয়েছিলো। ইতিমধ্যে আমাদের পুলিশের একটি টিম তদন্ত চলমান রেখেছে। এখনো পর্যন্ত তেমন কোন কিছু পাওয়া যায়নি।মা ও শিশুকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
