রাজস্থলীতে উৎসবের আমেজে নববর্ষ ও বৈসাবি উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা

37

॥ মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥
পার্বত্য জনপদে ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ এবং পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ (বিজু, সাংগ্রাই, বিষু) যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দেশীয় সংস্কৃতি ও পাহাড়ি ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দিনটি স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বৈশাখী আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ এবং পাহাড়ের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে আনন্দময় করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হারিয়ে যাওয়া দেশীয় খেলাধুলা এবং পাহাড়ি সংস্কৃতির যাবতীয় অনুষঙ্গ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হবে যাতে একটি মানসম্মত ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন,উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান শেখ, সাংবাদিক আজগর আলী খান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাজেরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সীথি চাকমা, সমাজ সেবা কর্মকর্তা লীজা চাকমা প্রমূখ। এছাড়াও সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, পহেলা বৈশাখ ও বৈসাবি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ও ক্ষুদ্র পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বিজু, সাংগ্রাই ও বিষু উৎসবের রঙিন আয়োজনগুলো যেন নির্বিঘ্নে পালিত হয়, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। বক্তারা প্রত্যাশা করেন, পাহাড় ও সমতলের এই সম্মিলিত উৎসব সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হবে। অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রতিটি উপজেলাকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।