সম্পাদকীয়/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন রমজানের প্রভাবে ২০২৬ নতুন বছরের শুরুতে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এটি একটি বাস্তব চিত্র। শীতকাল সাধারণত পাহাড়ি এই জনপদের পর্যটনের প্রধান মৌসুম হলেও চলতি সময়ে হোটেল–রিসোর্ট, নৌভ্রমণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত মৌসুমিক ও সাময়িক বলেই প্রতীয়মান হয়।
রাঙ্গামাটির পলওয়েল পার্ক, কাপ্তাই লেক ও ঝুলন্ত সেতুর মতো পরিচিত পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় তুলনামূলক কম। এতে কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক নৌযান চলাচল হ্রাস পেয়েছে, প্রভাব পড়েছে মাঝি, শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ে। হোটেল–রিসোর্ট মালিকরাও কক্ষ ভাড়ায় ছাড় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, চ্যালেঞ্জের মাঝেও পর্যটন খাত থেমে নেই।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীলতা এবং ঈদ ও ছুটির মৌসুম এলেই পর্যটকের আনাগোনা আবার বাড়বে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এর স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্যও সেই আশাকেই জোরালো করে। রাঙ্গামাটির পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একবার দেখলে পর্যটকের মনে স্থায়ী ছাপ রাখে। নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণের প্রস্তুতিও রয়েছে।
পর্যটন কেবল বিনোদনের বিষয় নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি। পর্যটকের উপস্থিতি বাড়লে বাজার, পরিবহন, সেবা খাতসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক লেনদেন স্বাভাবিক গতিতে ফেরে। তাই এই সাময়িক মন্দাভাবকে নেতিবাচকভাবে দেখার চেয়ে, এটিকে পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতির সময় হিসেবেই দেখা উচিত।
রাঙ্গামাটি বারবার প্রমাণ করেছে, যে কোনো বিরতি শেষে সে ঘুরে দাঁড়াতে জানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অতিথিপরায়ণতা ও উদ্যোক্তাদের সক্রিয়তায় পর্যটন আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। পর্যটকের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাঙ্গামাটির অর্থনীতিও নতুন করে গতি পাবে, এমন আশা সকলের।
