আঞ্চলিক দলের প্রার্থী না থাকায় বদলেছে রাঙ্গামাটির নির্বাচনী হিসাব, মাঠে ৭ প্রার্থী

330

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির ২৯৯নং সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিংসহ প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বিতরণ, জনসংযোগ এবং পথসভা পাশাপাশি ভোটারদের সাথে মতবিনিময়ের মধ্যদিয়ে ধীরে ধীরে নির্বাচনী আমেজ তৈরী হচ্ছে। তবে কোন আঞ্চলিক দল থেকে কোন প্রার্থী না দেওয়ায় বদলে গেছে নির্বাচনী হিসাব নিকাশ। ফলে এই নির্বাচনটি পাহাড়ি ভোটারদের একটা বড় অংশের কাছে ‘পানসে’ নির্বাচন মনে করছেন।
রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজন। এর মধ্যে ৬জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
রাঙ্গামাটি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের সমর্থিত বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বি একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমাও কোদাল প্রতীক নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় নেতাকর্মী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ব্যাপক ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক রিক্সা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছে।
এদিকে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা ট্রাক প্রতীক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার লাঙ্গল প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জসিম উদ্দিন হাতপাখা প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেলা চাকমা ফুটবল প্রতীক নিয়ে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
এবারে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তে রাঙ্গামাটির ২৯৯নং আসনটির নির্বাচনী হিসাব বদলে গেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা হিসাব নিকাশ চলছে। বিশেষ করে নতুন আলোচনার উঠে এসেছেন খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক। পাহাড়ের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত এই নেতা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জোটের আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাঙ্গামাটি আসনটি খেলাফত মজলিশের ভাগে পড়ায় জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আঞ্চলিক দল প্রার্থী দিলেও এবার পার্বত্য অঞ্চলের কোনো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল রাঙ্গামাটি আসনে প্রার্থী দেয়নি। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানা ইস্যুকে কেন্দ্রে করে কিছুদিন পরপর অনেকটাই অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্য অঞ্চল। সংঘাত-সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে গত দেড় বছরে। যে কারণে ভোটারদের অনেকেই বলেছেন, এই নির্বাচনে যারাই জিতুক, তারা যেন অন্তত পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরাতে কাজ করেন।