॥ কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই ॥
গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে শোভা পাচ্ছে ধনিয়া পাতার খেত। সবাই মিলে একসাথে চাষ করেন ধনিয়া পাতা। বাছাইও করেন এক সাথে বসে মিলেমিশে। ভাল্লুকিয়া গ্রামে আয় উপার্জনের আর বিশেষ কোন ব্যবস্থা না থাকায় সবাই ধনিয়া পাতা চাষকেই বেছে নিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের দুর্গম ভাল্লুকিয়া পাহাড়ী এলাকায় যতটুকু সমতল জমি রয়েছে প্রায় সবটাতেই ধনিয়া পাতার চাষ শোভা পাচ্ছে। নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্র প্রজেক্ট তনচংগ্যা জানান, এই এলাকায় যত পরিবার আছে সবাই একযোগে ধনিয়া পাতার চাষ করেন। তার বাবাও ধনিয়া পাতা চাষ করেন বলে প্রজেক্ট তনচংগ্যা জানান।
ভাল্লুকিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রুপন শিকদার জানান, এই এলাকায় বাঙ্গালী পরিবারের কোন বসতি নেই। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। এখানে উন্নয়নের বিশেষ কোন ছোঁয়াও লাগেনি। বড় কোন হাটবাজারও নেই। এই এলাকার মাটি ধনিয়া পাতা চাষের জন্য উপযুক্ত। তাই এখানে ধনিয়া পাতার বিপুল চাষ করা হয়।
ভাল্লুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিরব তনচংগ্যা বলেন, বর্তমান বাজারে ধনিয়া পাতার বিপুল চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া এই এলাকায় উৎপাদিত ধনিয়া পাতার ঘ্রাণ সবার পছন্দ। তাই ভাল্লুকিয়ার ধনিয়া পাতার চাষীর সংখ্যাও বেশি।
ধনিয়াপাতা চাষী মিলন তনচংগ্যা বলেন, এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। আয় রোজগারের তেমন উৎস্য নেই। তবে এখানকার জমি বেশ উর্বর। এই ঊর্বর জমিতে বিলাতি ধনিয়া পাতার উৎপাদন ভালো হয়। এখানে জমি যারই থাকুক চাষ করেন সবাই মিলে। আবার সবাই মিলে একত্রে বাগান থেকে ধনিয়া পাতা তুলে আনেন। এবং ধনিয়া পাতা পরিষ্কার করা ও আঁটি বাঁধার কাজও সবাই একসাথে বসে মিলেমিশে করেন।
স্থানীয় মেলজয় তনচংগ্যা বলেন, ভাল্লুকিয়ায় অধিক পরিমানে ধনিয়া পাতার চাষ হলেও স্থানীয়রা দাম বেশি পান না। কেননা এই এলাকায় বসবাসকারি স্থানীয় জনগণ সাধারণত ধনিয়া পাতা খাননা। তারা ধনিয়া পাতা উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করে দেন। বেপারিরা এসে এখান থেকে মিনি ট্রাক ভর্তি করে ধনিয়া পাতা কিনে নিয়ে যান। স্থানীয় বাজারে ধনিয়া পাতা ৫০/৬০ টাকায় কেজি বিক্রি হলেও বাজারে দুইশ টাকার উপরে ধনিয়া পাতার দাম। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম একটু কম পেলেও চাষীরা খুশি।
স্থানীয় উথোয়াই চিং মারমা বলেন, ভাল্লুকিয়ায় ধনিয়া পাতা চাষে বিশেষ অর্থ যোগান দিতে হয়না। মাটি তৈরি করার পর প্রথমে ধনিয়া পাতার বীজ বপন করা হয়। চারা গজালে খেত জুড়ে বিশেষ পাতার ছাউনি দিয়ে সমগ্র বাগান ঢেকে দিতে হয়। আর ঢেকে দেওয়ার জন্য এসব পাতা স্থানীয়রা পাহাড় থেকে কেটে নিয়ে আসেন। শারীরিক শ্রম বেশি গেলেও আর্থিকভাবে খুব বেশি বিনিয়োগ করতে হয়না বিধায় ধনিয়া পাতা বিক্রি করে যা আয় হয় তাতেই সবাই খুশি।
