রাঙ্গামাটিঃ-নানা আয়োজনে রাঙ্গামাটিতে আজ ১৭ ডিসেম্বর পালিত হয়েছে হানাদার মুক্ত দিবস। রাঙ্গামাটি শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে শহীদ এম এ আলী স্মৃতি স্বম্ভ চত্বরে সকালে সামাজিক সংগঠন জীবনের আয়োজনে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসের সুচনা করা হয়।
তৎকালীন শেখ ফজলুল হক মনি-র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) এর বীর মুক্তিযোদ্ধা লেঃ কর্ণেল (অবঃ) মনিষ দেওয়ান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসের সুচনা করেন।
এসময় রাঙ্গামাটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আবু শাহাদাত সায়েম এবং জীবনের সাধারন সম্পাদক সাজিদ বিন জাহেদ সহ জীবনের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা, সর্বপ্রথম রাঙ্গামাটির যে স্থানে উত্তোলন করা হয়েছে সেই স্থানটির সংরক্ষণ ও যথাযথ মর্যাদায় রাঙ্গামাটি মুক্ত দিবস উদযাপনের দাবিতে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন করে।
উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর আত্মসর্মপনের দিনে পাক হানাদার বাহিনী সরে গেলেও তাদের মিত্র বাহিনী হিসেবে লুসাই ও মিজো সৈন্যরা রাঙ্গামাটিতে অবস্থান নেয়। পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী উপজাতি মিজো বাহিনীর কিছু সৈন্য থেকে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি মুক্ত হতে ১দিন সময় নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা মিজোদের হটিয়ে একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন শেখ ফজলুল হক মনি-র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) এর দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ পেয়ারা ও লেঃ কর্ণেল (অবঃ) মনিষ দেওয়ান।
এর একদিন পর ১৮ ডিসেম্বর মিত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল সুজন সিং ওভান ও শেখ ফজলুল হক মনি ভারতীয় হেলিকপ্টার যোগে রাঙ্গামাটির পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং মাঠ বর্তমান শহীদ শুক্কুর ষ্টেডিয়ামে অবতরণ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
