॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
অশুভ শক্তিকে শোধনের মধ্যদিয়ে শারদীয় দূর্গোৎসবের মহা সপ্তমী পূজার মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে দূর্গোৎসব। রাঙ্গামাটি জেলায় এবছর ১০ উপজেলায় ৪৪টি পুজা মন্ডবে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাক-ঢোল কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ।
এর আগে বুধবার (৯ অক্টোবর) মহা ষষ্ঠী পূজার এইদিন মায়ের বোধন, মন্ডপে মন্ডপে ঢাক ঢোল, আরতি, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মাধ্যমে ভক্তকুল মা” কে কৈলাস হতে মর্ত্যে আহ্বান করে অশুভ শক্তির বিনাশ করতে।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) মহা সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ছয়টা ১০ মিনিটে। ভোর থেকেই সকল বয়সী ভক্তরা মন্ডবেগুলোতে আসতে থাকেন। ভক্তরা বিশ^ শান্তি কামনায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। এছাড়াও চন্ডী ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে পূজা, দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে দিনব্যাপী চলেবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস মতে ভক্তদের কষ্ট দূর করতে চলতি বছর দেবী দূর্গা এসেছেন দোলায় বা পালকিতে চড়ে, আর বিজয়া দশমীর দিন ঘোটকে বা ঘোড়ায় মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে চলে যাবেন। পালকি বা দোলায় দেবীর আগমন বা গমন হলে ফলাফল হয় মড়ক। যা আগামী ১৩ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মহা সপ্তমীতে রাঙ্গামাটির পূজা মন্ডপগুলোতে সন্ধ্যারতি, শঙ্খ, উলুধ্বনি, কাঁসর ঘন্টা আর ঢাকের তালে তালে দর্শনার্থীদের মনকে উৎসবের পুরো আমেজ দিবে। আর আজ প্রথম দিন দূর্গা মাকে দর্শন করতে আসবেন রাঙ্গামাটির সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। আর আনন্দঘন ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে দূর্গাপূজা পালনে প্রশাসন থেকে প্রতিটি পুজা মন্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
এদিকে পূজায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মন্দিরেই থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশের স্বেচ্ছাসেবক দল ও মোবাইল টিম মাঠে রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বিতভাবে পূজা মন্ডপে আনসার ও পুলিশকে সহায়তা করছে। দেবী বিসর্জন দেয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে জেলা প্রশাসনের। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে তাঁদের অন্যতম সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আনন্দের মধ্যদিয়ে সুন্দর ভাবে উদযাপন করতে পারে সেদিকে প্রশাসনের পক্ষ হতে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসবের মধ্যদিয়ে পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে এই শারদীয় উৎসব পালন করবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
