নিজস্ব প্রতিবেদক: রাঙামাটিতে বাসায় গচ্ছিত ইয়াবা (টেবলেট) খুঁজে না পেয়ে পরিবারের বউ, শাশুড়ি ও ভাইদের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে দিবালোকে দেশীয় অস্ত্র (রামদা, রড ও লাঠি, হাতুড়ি) হাতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে মাদকসেবী অভিজিৎ চৌধুরী (৪২) ও তার বন্ধুরা।
হামলায় অভিজিৎ চৌধুরীর বউ রুপা দে (২৫) , শাশুড়ি শিখা রানী দে ৫০, শালা সুমন দে (২৬) ও সুজন দে (৩০) আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিখা রানী দে ও সুজন দে গুরুতর আহত অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের ২নং ওয়ার্ডের পুরাতন হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর করিম আকবরও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আমি বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল উপস্থিত হই এবং ভূক্তভোগীদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়াও তিনি জানান, সামাজিকভাবেও এই ঘটনার একটি প্রতিকার মূলক ব্যবসস্থা নিবেন। যাতে ভবিষ্যতে এলাকায় এধরনের সন্ত্রাসীমূলক ঘটনা না ঘটে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ভোক্তভোগী পরিবারের ৪জন আহতের মধ্যে রুপা দে প্রতিবেদক কে জানায়, আমার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করে। বাসায় আমার স্বামী অভিজিৎ ইয়াবা গচ্ছিত রেখেছিল কিন্তু বিষয়টি আমার অবগত নয়। গতকাল বিকালে বাসায় ইয়াবা খুঁজে না পেয়ে আমার উপর অমানুষিত নির্যাতন চালায়, আমাকে ব্যাপক মারধর করে এবং বাসায় জিনিসপত্র ভুংচুর করে। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি প্রাণ ভয়ে আমার বাবার বাড়ি চলে যায়। সেখানে গিয়েও আমার রক্ষা হয়নি, আমার স্বামী আমার পিছু নেয় এবং আমার বাপের বাড়ি চলে আসে। সেখানেও আমাকে মারধর করে এবং বাসায় ঢুকে জিনিসপত্র ভাংচুর করে।
আমার মা শিখা রানী দে, ভাই সুমন দে ও সুজন দে ভাংচুর বাধা দেয়, প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করার কারণে অভিজিৎ কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়ার পর তার ৮-১০জন মাদকসেবী বন্ধুদের ফোনের মাধ্যমে ডেকে আনে। আমার পরিবারের সদস্যরা অভিজিৎ এর কর্মকান্ডে বাধা দেওয়ার অপরাধে তাদের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র (রামদা, রড ও লাঠি) হাতে সন্ত্রাসী হামলা চালায় অভিজিৎ ও তার সহযোগিরা। হামলায় আমার ভাই আহত হলেও প্রাণ বয়ে নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যায় কিন্তু আমার মা হাতুড়ির আঘাতে পা ভেঙ্গে যায় ও ভাই সুজন দে ধারালো দেশীয় অস্ত্র রাম দা’র আঘাতে গুরুতর আহত হয়। তারা বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হামলার সময় এলাকার অনেকই এগিয়ে আসতে চাইলেও হামলাকারিদের হাতে দেশীয় অস্ত্র হাতে থাকায় কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি।
সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে রুপা দে বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিজিৎ চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। মামলায় রনি, অক্ষয়, আজিজ ও হায়দারকে সহ অজ্ঞাত ১০জনকে আসামি করা হয়।
এঘটনার প্রসঙ্গে অভিজিৎ চৌধুরীকে মুঠোফোনে কথা বলার জন্য বার বার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
মামলার বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, আমরা ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি, মালমা হয়েছে। আসামীদের আটক করতে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।
