অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক মেলবন্ধনের বার্তা দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

34

॥ রাহুল বড়ুয়া ছোটন, বান্দরবান ॥
দেবী দূর্গাকে উৎসর্গ করে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন ও দেবীর মুখন্মোচনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মহাসমারোহে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
প্রতি বছরের মত এবারও শহরের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে, রঙ্গিন আলোতে নানা রঙে সাজানো হয়েছে পূজা মন্ডপ, মাঠ জুড়ে বসেছে শারদ মেলা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে কেন্দ্রীয় দূর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে পূজামন্ডপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেবী দুর্গার মুখন্মোচন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি।
এসময় সেনাবাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মিজ নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো.ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাজেশ্বর দাশ বিপ্লব সহ পূজা উদযাপন কমিটি, মন্দির কমিটি ও সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক সম্প্রদায়ের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আমাদের আবহমান কালের সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করার এক অনন্য সেতুবন্ধন। এই উৎসব অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সত্য ও সুন্দরের জয়ের প্রতীক। পূজার আনন্দ ও মানবিক মূল্যবোধ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
পূজামণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, উৎসব চলাকালে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি এবং স্থানীয় সচেতন জনগণকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। একই সাথে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুসংহত ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্টানে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে শুভ সুচনা হয়, পরে চন্ডী পাঠের পর শুরু হয় ষষ্ঠী পূজা। অনুষ্টানে শতাধিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং ৪ শতাধিক দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।