॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়িতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে “অ্যাক্সেস টু এন্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস ইন চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং এর আয়োজনে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এফআইভিডিবি।
জাবারাং কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। এতে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ, প্রকল্প টিম লিডার এস এম খালেদুল আহসান, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।
সভায় খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, কোনো সরকারের পক্ষেই একটি দেশের সব মানুষের প্রয়োজন শতভাগ পূরণ করা সম্ভব নয়। এর অন্যতম কারণ হলো সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং জনবল ও প্রশাসনিক বাস্তবতার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই উন্নয়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরো বলেন, শিশু পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবার কার্যকারিতা জোরদারে কাজ করা হবে।
এ সময় সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় অংশীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
