রুমায় ভারী বর্ষণ হলেই আতংকে কয়েকটি পরিবার “পাহাড় ধসে ঘরটা চলে যায় কিনা’

40

॥ রুমা প্রতিনিধি ॥
ভারী বর্ষণ চলাকালে যে অসুবিধা ও ভয় ছিল, তার চেয়ে ভয় ও চিন্তায় থাকতে হয় এখন। কারণ মোটর বাইক চালিয়ে বাইরে থাকা লাগছে সারাদিন। সামান্য বৃষ্টি পড়লেও মন চলে যায় ঘরের দিকে। আবারো পাহাড় ধসে ঘরটা চলে যায় কিনা, এই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এ কথাগুলো বলেছেন বাইকার মোহাম্মদ জামাল হোসেন (৪৮)।
শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ১নং সদরঘাটে একটি দোকানে বাইকার জামাল হোসেনের কথা বলেন, এ প্রতিবেদক। বান্দরবানে রুমা উপজেলায় সদর ইউনিয়নের নামী পাড়ার বাসিন্দা তিনি।
জামাল হোসেন এর ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে তার ঘরের সামনে-পিছনে কাদামাটি জমে। এতে ঘরের সামনে ও কোণায় খুঁটি গেড়ে মাটি ভরিয়ে বস্তার বাঁধও প্রবল ভারি বর্ষণে সব চলে গেছে। এঅবস্থায় ঘরের মধ্যে কখন যে মাটি ধসে পরে এ আশঙ্কায় ভূগছেন জামাল হোসেন পরিবারের লোকজন। শুধু জামাল হোসেনের ঘর বাড়ি নয়, পাশাপাশি থাকা আলম (৫৫) ও কামাল (৫২) এর বসত ঘরও মাটি ধসে চাপা পরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জামাল হোসেন আরো বলেন, বসত ঘরে স্ত্রী ও দুই থেকে ১০বছর বয়সী ছয়জন ছেলে মেয়ে আছে। মোটরসাইকেল ভাড়া চালানোর ছাড়া অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পরবর্তী রাস্তাঘাটেও ভাঙ্গন বেশি। রাস্তায় সৃষ্ট গর্তের কারণে সাধারণ মানুষেরাও মোটরসাইকেল করে কোথাও আসা-যাওয়া করছে না। তাই যাত্রি না থাকায় আয়ও কমে গেছে বাইকারদের।
জামাল বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত পেয়েছেন ৩০ কেজি চাল, এক লিটার তেল, এক কেজি ডাল, দুই কেজি আলু ও পাঁচ লিটার বিশুদ্ধ পানি। তার মত অন্যেরাও পেয়েছেন এসব ত্রাণ সামগ্রি।
তিনি জানান, এতসব সমস্যার মধ্যেও তার সবচেয়ে চিন্তা হলো- বসত ঘরের চারিদিকে পাহাড় ধসে জমানো কাদামাটি নিয়ে। তাই সামান্য বৃষ্টি পড়লে-ই বাইকার জামাল মনে স্থির করতে পারছেন না এবং বৃষ্টি পাতের কারণে বসত ঘরে ছেলে মেয়ে ও পরিবারে যেন অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন না ঘটে। এটাই প্রার্থনা। কামাল, আলম ও জামালের বসত ঘরগুলো রক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটি শক্ত দেয়াল নির্মাণ করে তাদের একমাত্র দাবি।