রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪২৬৫ জন আশ্রয় গ্রহন

55

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এপর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪২৬৫জন মানুষ আশ্রয় গ্রহন করেছে।
জানা গেছে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙ্গনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। রাঙ্গামাটি সদর মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সে নদী পার হতে গিয়ে নদীতে ভেসে যায়। অন্যদিকে বিলাইছড়িতে বহিরাগত এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছে। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় চলমান ভারী বর্ষণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‎বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সাজেকে আটকা পড়েছে প্রায় ৫শতাধিক পর্যটক। অন্যদিকে আজ সকালে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এব্যাপারে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর হেলাল উদ্দিন বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ও রাঙ্গামাটি লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির আশ্রমের আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি ‎টানা ভারী বর্ষণ ও দুর্যোগকালীন সময়ে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ১৩শ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান।
এই দূযোগকালীন সময়ে কোন জান মালের যাতে ক্ষতি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে দূর্যোগের সময় সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে চলে আসতে আহবান জানিয়েছে প্রশাসন।