॥ মো. সোহেল রানা, দীঘিনালা ॥
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একের পর এক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা–লংগদু, দীঘিনালা–সাজেক সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত দুই দিন আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক।
সাজেক সড়কের কবাখালী, সীমানাছড়া, মাচালং বাজার ও বাঘাইহাট বাজার পয়েন্টে সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সড়কের পানি না নামলে আজও সাজেকে পর্যটকদের অবস্থান করতে হবে। অপরদিকে মেরুং এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মেরুং এলাকায় বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে দীঘিনালা-লংগদুর সাথে এখনো সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে মাইনী নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ৮ হাজার মানুষ।
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মিনা চাকমা বলেন, দীঘিনালা উপজেলায় সবচেয়ে মেরুং ইউনিয়ন এলাকায় বন্যায় হলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পানিবন্ধি পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়ে আসা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ”র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দেয়া হচ্ছে।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন, কবাখালী ইউনিয়ন ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র ২শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র পরিবারের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদ পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরন করা হচ্ছে।
দীঘিনালা উপজেলায় বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়ি ২৯৮নং আসনের সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়ার নির্দেশক্রমে দীঘিনালা বিএনপির নেতাকর্মীরা বন্যায় কবলিত আশ্রয় কেন্দ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হলে দীঘিনালা উপজেলা বিস্তর এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষজন পানি বন্ধি হয়েছে। ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র সাত আটশত পরিবার আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র পরিবারের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদ জনপ্রতিনিধিগন ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনি যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
