॥ রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজমিন আলম তুলি সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডা: এখিং মারমা, কৃষি অফিসার মো. এহসানুল হক, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী জামান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ১নং রোয়াংছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা, ২নং তারাছা ইউপি চেয়ারম্যান উনুমং মারমা, ৩নং আলেক্ষ্যং ইউপি চেয়াম্যান বিশ^নাথ তঞ্চঙ্গ্যা।
এসময় অনুষ্ঠানের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডা: এখিং মারমা উন্মুক্ত আলোচনায় বলেন, সঠিক সময়ে শিশুকে হামের টিকা দিয়ে সুরক্ষিত করা ও গর্ববতী মায়েরা গর্তের প্রথম ৩ মাসের সময় রুবেলা ভাইরাস দ্বারা আক্রন্ত হলে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে মা থেকে গর্তের শিও আত্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে গর্ভপাত এমনকি গর্ভের শিশুর মৃত্যুও হতে পারে, বাঁচার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে গঠিত সময়ে শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দিয়ে সুরক্ষিত করতে হবে। হাম ও রুবেলা সংক্রমণ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে এক বছরের নিচে যাদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া শিশু। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলার সংক্রমণ রোখে উচ্চমান সম্পন্ন হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব ৩-৪ বছর পরপর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করার লক্ষে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার প্রধান কর্মকৌশলগুলো ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি হাম ও রুবেলা রোগ নিরীক্ষণ ম্যানেজমেন্ট জোরদার করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের নিচের সকল শিশুদের ১ ডোজ এমআর টিকা প্রদানের মাধ্যমে ২ বছর বয়সের নিচের সকল বাদপড়া শিশুদের খুঁজে বের করে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন, এতিমখানা, শিশু আশ্রাম ইত্যাদি ৫ বছরের নিচের শিশুরা অধ্যয়নরত, সেখানে টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের ১ ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে টিকা নিতে পারবে স্বাস্থ্যকর্মী বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে সকল অস্থায়ী এবং স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রসমূহে শিশুর যেকোনো অসুবিধা মোকাবেলায় কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে।
