॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে পাহাড়ে সামাজিক উৎসব বৈসাবী। ১২ এপ্রিল ভোরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে ১৪টি জনগোষ্ঠীর মানুষ গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুরনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
এদিকে সামাজিক উৎসব বৈসাবীকে কেন্দ্র করে উৎসাহ ও উদ্দীপনায় মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা ও মারমা জাতিগোষ্ঠির মানুষ আলাদা নামে হলেও একযোগে পালন করে এই উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই আর তংচঙ্গ্যারা বিষু নামে এই সামাজিক উৎসব পালন করে। উৎসবকে ঘিরে নানান রঙে সেজেছে পুরো পার্বত্য এলাকা।
আজ ১২ এপ্রিল উৎসবের প্রথম দিন চাকমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গ্যা সম্প্রদায়রা ফুল বিজু বৈসু কিংবা বিষু উৎসব পালন করে। এদিন গঙ্গা দেবীর আরাধনায় নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে শুরু হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ১৩ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না করে অতিথি আপ্পায়নের মধ্যদিয়ে চলবে মুল বিজুর আনুষ্ঠানিকতা। আর আর ১৪ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে মারমাদের ঐ্যতিহ্যবাহি জল খেলি তথা পানি খেলা উৎসব। এই উৎসবের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাহাড়ে বৈসাবী উৎসব।
এবার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে চলছে উৎসব আয়োজনের নানা কার্যক্রম। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বৈসাবীকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এই বৈসাবী উৎসবের ফলে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেইল বন্ধন রচনা হবে বলে প্রত্যাশা পাহাড়ের মানুষের।
