॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দিন দিন কমছে। আর এতে করে কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতায় কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তেমনী হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় ডুবোচর ভেসে উঠার কারণে রাঙ্গামাটির সদর উপজেলার সঙ্গে ৬ উপজেলার লঞ্চ চলাচলও মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী মার্চ-এপ্রিলের দিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও কমতে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ভাটা পড়বে।
জানা গেছে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পানি স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৮০ মেগাওয়াটে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিট হতে এই ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচণ্ড খড়া এবং শুষ্ক মৌসুমে হ্রদে পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। যার ফলে ২৩০ মেগাওয়াট হতে দিন দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন নিচে নেমে এসেছে ৮০ মেগাওয়াটে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, ১নং ও ২নং ইউনিট হতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। যা ন্যাশনাল গ্রেডে যুক্ত হচ্ছে। ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি ইউনিট পানি স্বল্পতার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরো জানান, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে চলতি মৌসুমে পানি থাকার কথা ৮৬ এমএসএল (মিন সি লেভেল)। বর্তমানে হ্রদে পানি আছে ৮১ দশমিক ৩৫ এমএসএল পর্যন্ত। দিন দিন হ্রদে পানি হ্রাস পাচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার বাসিন্দাদের। এ উপজেলাগুলোর নৌ-পথে পানি কমে যাওয়ার কারণে ঘন্টা পর ঘন্টা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের। ড্রেজিং না হওয়ার ফলে কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা হারাচ্ছে। যার ফলে প্রতি খরা মৌসুমে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাপ্তাই হ্রদকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
