পর্যটক বাড়াতে নান্দনিক রূপে এগিয়ে যাচ্ছে রাঙ্গামাটি

224

॥ আহমদ বিলাল খান ॥
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ঝুলন্ত ব্রীজ, পলওয়ে পার্ক, সুবলং ঝর্ণারসহ অন্যান্য পর্যটন স্পট ছাড়াও সবুজ পাহাড় আর নীল কাপ্তাই হ্রদকে সঙ্গী করে রাঙ্গামাটি শহরের ফিসারী সংযোগ বাঁধের পাশে পর্যটন সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত সুচনা করেছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের (আরএইচডি) উদ্যোগে গড়ে তোলা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ‘‘আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেন’’। অন্যান্য পর্যটন স্পট ছাড়াও লেক ভিউ গার্ডেন রাঙ্গামাটি শহরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে পর্যটকদের আনাগোনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম।
তিনি বলেন, রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করাই মূল লক্ষ্য। পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হলে হোটেল, হোমস্টে, স্থানীয় খাবার, পরিবহন ও বিভিন্ন সেবাখাতে ব্যবসার সুযোগ আরও বাড়বে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গত ১৪ মাসের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাবীব আজম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অদ্যাবধি গত ১৪ মাসে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ সময় পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণ, আধুনিক ওয়াশরুম স্থাপন এবং ফিশারি ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও স্যানিটেশন সুবিধা সংযোজনসহ একাধিক অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ভিউ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কাপ্তাই হ্রদ ও আশপাশের পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা ইতোমধ্যে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের বিষয়ে হাবীব আজম জানান, সাজেক ভ্যালিতে পার্কিং সুবিধা উন্নয়ন এবং কংলাক পাহাড়ে সিঁড়ি নির্মাণের ফলে দুর্গম পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। ফলে পরিবার ও বয়স্ক পর্যটকরাও এখন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারছেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঙ্গামাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। এতে করে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের নতুন দ্বার উম্মোচিত হচ্ছে।