॥ মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥
আসন্ন পার্লামেন্ট ইলেকশনকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি ২৯৯নং আসনে চলছে ভোট গ্রহনা। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ ভোটাররা।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি আসনে রাজস্থলী উপজেলার এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২১৭২৩ জন। এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুত গ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বাকী ৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এই সিসি ক্যামেরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আনতে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোট জালিয়াতি রোধে কেন্দ্র গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি বুথ ও ভোটকেন্দ্রের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা। ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা।
নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ, অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়-তবে সিসি ক্যামেরার প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারী পুরুষ ও ভোটারদের নিরাপত্তা এবং আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার এই বুহ্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ক্ষেত্রে ঝুঁঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মতে, সিসি ক্যামেরা থাকায় কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের ভয় অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে- প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল অপরাধ দমন নয় বরং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও মাইলফলক হয়ে থাকবে।
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার সেলিনা আক্তার জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ বা অনিয়মের আভাস পাওয়া যায়, তবে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস জোগাবে। ডিজিটাল এই পাহারায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে কেন্দ্রে আসবেন-এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়।
