॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মোঃ নূর ইসলাম বলেছেন, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ খাগড়াছড়ি গড়াই আমাদের লক্ষ্য। শান্তি সম্প্রীতি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ইসতেহার প্রকাশের আগে স্থানীয় প্রয়োজনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবী উত্থাপন করেন। স্থানীয় ইস্তেহার সমৃহ হচ্ছে যথাক্রমে ভূমি অধিকার ও শান্তি চুক্তি ভূমি সমস্যার সমাধান: ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম বেগবান করে প্রকৃত মালিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
শান্তি চুক্তি: পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নিরাপত্তা: পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীর জান-মালের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা হবে।
২. কৃষি ও অর্থনৈতিক বিপ্লব
হিমাগার স্থাপন: আম, লিচু ও আনারস চাষিদের সুবিধার্থে খাগড়াছড়িতে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ করা হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ: স্থানীয় ফলমূল দিয়ে জ্যাম-জেলি তৈরির কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ক্ষুদ্র ঋণ: প্রান্তিক চাষিদের জন্য সহজ শর্তে সুদমুক্ত কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
৩. শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন
কারিগরি শিক্ষা: প্রতিটি উপজেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। ভাষা রক্ষা: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও প্রসারিত করা হবে।
৪. আধুনিক অবকাঠামো ও পর্যটন
দুর্গম সড়ক উন্নয়ন: সাজেকসহ অন্যান্য দুর্গম এলাকার সংযোগ সড়কগুলো উন্নত ও টেকসই করা হবে। ইকো-ট্যুরিজম: পরিবেশ রক্ষা করে আলুটিলা, রিসাং ঝরনা ও হাজাছড়াকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নেটওয়ার্ক সুবিধা: পাহাড়ের গহীন অঞ্চলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ৫. স্বাস্থ্য ও নাগরিক সুবিধা, সুপেয় পানি: পাহাড়ি ঝিড়ি-ঝরনা রক্ষা এবং গভীর নলকূপের মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকট স্থায়ীভাবে দূর করা হবে। আধুনিক হাসপাতাল: খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন করা হবে যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম বা ঢাকা যেতে না হয়।
তিনি বলেন “পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বৈষম্যহীন এক খাগড়াছড়ি গড়াই আমাদের অঙ্গীকার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য নাছির উদ্দিন, নেতা সাইদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন, হানিফ মিয়া, বেলাল হোসেন ইনসানিয়াত বিপ্লব, মোঃ কাওছার আলম খাগড়াছড়ি জেলাঃ জেলা প্রচার সম্পাদক আশ্রাফুল ইসলাম।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ইস্তেহার সমুহ হচ্ছে নিন্মরুপ।
১. ভূমি অধিকার ও শান্তি চুক্তি
ভূমি সমস্যার সমাধান: ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম বেগবান করে প্রকৃত মালিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শান্তি চুক্তি: পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা: পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীর জান-মালের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা হবে।
২. কৃষি ও অর্থনৈতিক বিপ্লব
হিমাগার স্থাপন: আম, লিচু ও আনারস চাষিদের সুবিধার্থে খাগড়াছড়িতে আধুনিক হিমাগার (ঈড়ষফ ঝঃড়ৎধমব) নির্মাণ করা হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ: স্থানীয় ফলমূল দিয়ে জ্যাম-জেলি তৈরির কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ক্ষুদ্র ঋণ: প্রান্তিক চাষিদের জন্য সহজ শর্তে সুদমুক্ত কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
৩. শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন
কারিগরি শিক্ষা: প্রতিটি উপজেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। ভাষা রক্ষা: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও প্রসারিত করা হবে।
৪. আধুনিক অবকাঠামো ও পর্যটন
দুর্গম সড়ক উন্নয়ন: সাজেকসহ অন্যান্য দুর্গম এলাকার সংযোগ সড়কগুলো উন্নত ও টেকসই করা হবে। ইকো-ট্যুরিজম: পরিবেশ রক্ষা করে আলুটিলা, রিসাং ঝরনা ও হাজাছড়াকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নেটওয়ার্ক সুবিধা: পাহাড়ের গহীন অঞ্চলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
৫. স্বাস্থ্য ও নাগরিক সুবিধা
সুপেয় পানি: পাহাড়ি ঝিড়ি-ঝরনা রক্ষা এবং গভীর নলকূপের মাধ্যমে সুপেয় পানির সংকট স্থায়ীভাবে দূর করা হবে। আধুনিক হাসপাতাল: খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন করা হবে যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম বা ঢাকা যেতে না হয়। “পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বৈষম্যহীন এক খাগড়াছড়ি গড়াই আমাদের অঙ্গীকার। মানবতার রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনি ইশতেহার। মানবতার রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ এই ইশতেহার বা নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোর ভিত্তিতে জনগণের রায় চায়।
(১) রাষ্ট্র হবে সাংবিধানিকভাবে সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের সমান মালিকানা ও সমান নাগরিকত্ব ভিত্তিক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র। (২) রাষ্ট্র একক ধর্ম-একক জাতি-একক মতবাদ-একক দলভিত্তিক-একক গোষ্ঠীভিত্তিক হতে পারবে না, এটা অলঙ্ঘনীয় সাংবিধানিক মৌলিক বিধিবদ্ধ থাকতে হবে। (৩) রাষ্ট্রের বাইরের ও ভিতরের সকল অপশক্তির জবরদখল থেকে রাষ্ট্রের বাহ্যিক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা ও জীবনের স্বাধীনতা রক্ষা করা হবে। (৪) প্রত্যেক মানুষ তার জীবন-বিশ্বাস-ধর্ম-মত-পথ-আদর্শ-সংস্কৃতি নিয়ে স্বাধীনভাবে চলবেন ও পালন করবেন, রাষ্ট্র বা কেউ কারো উপর তার জীবন-ধর্ম- বিশ্বাস-মতপথের বিপরীত কিছু চাপিয়ে দিতে পারবেনা বা কারো ধর্ম-মত-পথ কিছু নিষিদ্ধ করতে পারবেনা। (৫) ধর্মের সত্য ও ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষায় ও ধর্মের মুক্ত প্রবাহ রক্ষায়, ধর্মের নামে রাজনৈতিক ধোকা প্রতারণা রোধে, ধর্মের নাম আবেগ অনুভূতির অপব্যবহার রোধে, ধর্মের বিকৃতি রোধে, উগ্রবাদ জঙ্গিবাদ রোধে, ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল ও একক ধর্মের নামে রাষ্ট্র করার ধর্মবিনাশী চক্রান্ত সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করা হবে। ধর্মের নামে ধর্মের আত্মিক রাজনৈতিক মানবিক শিক্ষা তুলে ধরার জন্য ধর্মের নামে দল সংগঠন সংস্থা হতে পারে কিন্তু রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র হতে পারে না, ধর্মের নামে একক ধর্মরাষ্ট্রের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। ধর্ম কোন একক দলীয় বিষয় নয়, ধর্ম কোন একক দল বা গোষ্ঠির বিষয় নয়, ধর্মকে দলীয়করণ ও রাষ্ট্রীয়করণ থেকে বাঁচানোর জন্য তথা ধর্ম রক্ষায় ও রাষ্ট্র রক্ষায় ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিল করা হবে। (৬) দলীয় সরকার হলেও সব মানুষের পক্ষে- সব মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সর্বজনীন রাষ্ট্রের পক্ষে শপথ নিতে হবে, শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্র ও সব মানুষের বৈষম্যহীন প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, দলীয় মতবাদ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা, জনগণের হক, সম্পদ, চাকুরি ও কোনোকিছুই একক দলীয়করণ করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো গোপন চুক্তি করা যাবে না। (৭) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের নির্বাচিত নন এমন কোন ব্যক্তি সরকার প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধান হতে পারবেন না। সকল নির্বাচন চলমান সংসদ বিলোপ করে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে নির্বাচনী ইন্টেরিম সরকারের মাধ্যমে হতে হবে।
(৮) সকল রাষ্ট্রীয় সংসদ নির্বাচন মোবাইল ফোনে ভোটিং অ্যাপের মাধ্যমে যার যার ভোটার আইডির নম্বর ও পাসওয়ার্ড এর ভিত্তিতে বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপের মাধ্যমে হতে হবে। যেন দেশের ভিতরের বাইরের সব নাগরিক যার যার স্থানে থেকে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন। (৯) রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের মধ্যে ধর্ম-ভাষা-গোত্র-লিঙ্গ-বর্ণ-শ্রেণীগত কোনো বৈষম্য বিভেদ করতে পারবেনা, সব মানুষের মানবিক সাম্যভিত্তিক সমান অধিকার মর্যাদার রক্ষক হবে রাষ্ট্র ও সরকার। (১০) রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান করা হবে। (১১) প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে সরকার ও দূতাবাসসমূহ যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে, কোন প্রবাসী প্রবাসে ইন্তেকাল করলে রাষ্ট্রীয় খরচে তাকে দেশে আনতে হবে, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের আসা-যাওয়া হয়রানিমুক্ত ও সহজ এবং সম্মানজনক করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত প্রবাসীদের আনা সব মালামাল করমুক্ত করা হবে। (১২) আবাস গৃহের কর আদায় প্রত্যাহার করে সব আবাসিক পারিবারিক গৃহ করমুক্ত করা হবে, নির্দিষ্ট পরিমাপের নিম্নে জমিও করমুক্ত ও খাজনা মুক্ত করা হবে। (১৩) জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধ ও উপকরণ সকল প্রকার শুল্কমুক্ত ও করমুক্ত করা হবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক সরকারি হসপিটাল করা হবে। (১৪) শহর বা পাড়ায় গ্রাম্য বিচার সালিশের নামে বা ফতোয়াবাজির নামে ধর্মের নামে মানুষের উপর সকল অন্যায়-অবিচার-আতঙ্ক-মবসন্ত্রাস-জুলুম-টর্চারসেল স্বৈরতা দস্যুতা বন্ধ করা হবে। কারো জীবনের উপর অন্য কারো কোনো অবৈধ অন্যায় কর্তৃত্ব থাকবে না। কেউ কারো হক লঙ্ঘন বা ক্ষতি করে থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনানুগ আদালতের মাধ্যমে বিচার সমাধান করা হবে। (১৫) উৎপাদন থেকে ভোক্তা ক্রেতা পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল বিষাক্ততা দূষণমুক্ত কঠোরভাবে মুক্ত রাখতে হবে। মূল্যস্ফীতি দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি রোধে ও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার সকল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (১৬) রাষ্ট্র মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, ভর্তি ফি, পরীক্ষা ফি এসব অন্যায় ব্যবসা বন্ধ করা হবে। (১৭) স্রষ্টার ভালোবাসা ভিত্তিক ও স্রষ্টার মহান রাসুলের ভালোবাসায় ও যার যার ধর্ম প্রবর্তকের ভালোবাসায় সব মানুষকে ভালোবাসা ভিত্তিক মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে যার মাধ্যমে মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ কল্যাণময় মানুষ ও সমাজ তৈরি হবে। (১৮) ধর্মের নামে আইন আমল ফতোয়ার বাড়াবাড়ি বা কোন বিশেষ গোষ্ঠির মতবাদ কেউ যেন ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দিতে না পারে তা রাষ্ট্র ও সরকার নিশ্চিত করা হবে। (১৯) সব মানুষের জীবন নিরাপদ, স্বাধীন, আতংকমুক্ত থাকার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারকে নিতে হবে। তবে স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কোন নবী রাসুল ধর্ম প্রবর্তক বা কোন মত পথ আদর্শের অনুসরণীয় প্রবর্তকদের অবমাননা করা যাবে না। (২০) একক ধর্মের নামে বা একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদভিত্তিক একক গোষ্ঠিবাদি দল সংগঠন হতে পারবে কিন্তু রাজনৈতিক দল হতে হলে একক ধর্মের নামে বা একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি মতবাদভিত্তিক রেসিজমভিত্তিক হতে পারবেনা, রাজনৈতিক দল হতে হলে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে যেন রাষ্ট্র একক গোষ্ঠির জবরদখলে মানবতাবিরুদ্ধ হাতিয়ার হয়ে না যায়। (২১) রাষ্ট্র ও সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানের দায়িত্ব নিতে হবে এবং নিশ্চিত করা হবে। (২২) জনগণই রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে সাংবিধানিকভাবে বিধিবদ্ধ থাকতে হবে। ২৩) মানুষ যেন অমানুষ অপরাধী হয়ে গড়ে না উঠে এবং মানুষ যেন মানবিক ও ন্যায়বান হয় সেভাবে মানবিক মানুষ গড়ে তোলাই হবে রাষ্ট্রের মূল মানবিক লক্ষ্য। (২৪) আদালত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানবিক হবেন এবং নির্বাহী বিভাগের অন্যায় হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবেন কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি থাকবেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। ২৫) খাদ্য ও ঔষধ অন্যান্য সকল উৎপাদনে রাষ্ট্রকে আমদানিমুক্ত স্বনির্ভর স্বাবলম্বী বিদেশ নির্ভরতামুক্ত করতে হবে যেন যে কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগে জনগণ বিপন্ন ও সংকটে নিপতিত না হোন। (২৬) রাস্তাঘাট, জল স্থল আকাশ সব যাতায়াত যোগাযোগ শতভাগ নিরাপদ ও দুর্বৃত্তমুক্ত করতে হবে এবং দুর্ঘটনার হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। (২৭) প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ এবং গণহত্যায় লিপ্ত ও মানবাধিকার হরণকারি নিপীড়ক রাষ্ট্র ছাড়া সব রাষ্ট্রের সাথে নিজেদের স্বার্থ ও মর্যাদা এবং স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখে সুসম্পর্ক রাখতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক বিদ্বেষ শত্রুতা পরিহার করে চলতে হবে। (২৮) বিশ্ব মানবতার যে কোনো সংকট দূর্যোগ অন্যায় অবিচার হত্যাকাণ্ডে বিপন্ন মানবতার পাশে আশ্রয় হিসেবে রাষ্ট্র ও সরকার জনগণকে নিয়ে ভূমিকা রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রকে বিপন্ন মানবতার সহায় ও আশ্রয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। (২৯) প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের সংকটে রাষ্ট্র ও সরকারকে পাশে দাঁড়াতে হবে।
(৩০) জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং মানবতার আদর্শে রাষ্ট্রকে সমগ্র দুনিয়ার সবার জন্য দিশারী ও আদর্শ করে গড়ে তুলতে হবে। (৩১) সব নাগরিকের কর্মসংস্থান, উপার্জন, বিনিয়োগের সহায়ক হবে রাষ্ট্র ও সরকার এবং জনসংখ্যাকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত উচ্চ মানের জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। (৩২) গিফটেড শিশু, উপার্জনে অক্ষম মানুষ, উপার্জনহীন বিধবা, বয়োঃবৃদ্ধ অক্ষম অসহায় মানুষ সবার সার্বিক দায়িত্ব পরিবারের সহায়তায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে যেন কেউ রাষ্ট্রহীন অসহায় বিপন্ন বোধ না করেন। (৩৩) মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস আদালত, শিল্প কারখানা দলীয় রাজনীতির কমিটি মুক্ত ও একক দলীয় রাজনীতির জবরদখল কুক্ষিগত করা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। (৩৪) রাষ্ট্রীয় সম্পদে ও প্রাকৃতিক সম্পদে সব মানুষের সমান মালিকানাভিত্তিক মানবতার অর্থনীতি ও সম্পদের গণতন্ত্রায়ণ করা হবে। (৩৫) জীবনের স্বাধীনতা হরণকারী, অধিকার নিরাপত্তা হরণকারী, মৌলিক মানবাধিকার রূদ্ধকারী, নিপীড়ন নির্যাতনমূলক, স্বৈরতামূলক সকল আইন কালাকানুন বাতিল করা হবে। জীবনকে মুক্ত ও রাষ্ট্রকে মানবতার রক্ষক ও আশ্রয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। (৩৬) সব মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হিসেবে নেয়া হবে এবং বিশেষভাবে মা বোনদের শিশুদের খুন ধর্ষনের বিরূদ্ধে জরুরী বিশেষ আদালত গঠন করে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সম্পূর্ণ অপরাধ মুক্ত মানবিক সমাজের জন্য অন্য সকল প্রতিরোধব্যবস্থা সাথে সকল অপরাধের দ্রুত কঠোর বিধান কার্যকর করা হবে। (৩৭) জীবনের সত্য প্রতিষ্ঠায় লিঙ্গগত বস্তুবাদি বৈষম্যের মূলোৎপাটন করে মানুষ হিসেবে মা বোনদের সমান মর্যাদা-অধিকার- স্বাধীনতা-শিক্ষা-জীবনের বিকাশ-নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বী জীবন সুনিশ্চিত করা হবে। (৩৮) অর্থনীতির বিকাশ, সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে সকল বিনিয়োগ প্রশ্নের উর্ধে রাখা হবে ও হয়রানিমুক্ত সাবলীল স্বাভাবিক নিরাপদ রাখতে হবে। সকল অপ্রদর্শিত আয় পাচার রোধে ও অর্থনীতির মূল প্রবাহে যুক্ত হওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা করা হবে। (৩৯) মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা একটা অংশ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদান করা হবে।
(৪০) দেশের সকল ছিন্নমূল পরিবারের নিজ নিজ এলাকায় পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কাউকে রাষ্ট্রীয় ভাতার মুখাপেক্ষী না রেখে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করা হবে। (৪১) রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অপচয় ও দুর্নীতি সম্পূর্ণ রোধ করা হবে। (৪২) কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে উৎপাদন উপকরণ, নিরাপদ সার ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হবে এবং উৎপাদিত পণ্যে মধ্যসত্ত্বভোগীদের কারসাজি দূর করে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। (৪৩) সকল প্রকার মিথ্যা মামলা অন্যায়ভাবে কাউকে আটক রেখে উপার্জন ধ্বংস ও পরিবার ধ্বংস করা বন্ধ করা হবে। থানা-জেল-রিমান্ড কোনোভাবেই কোথাও কাউকে নির্যাতন বন্ধ করা হবে। (৪৪) অন্যের অধিকার মর্যাদা হানি না করে এবং মিথ্যার প্রশ্রয় না দিয়ে বাক স্বাধীনতা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা, সাংবাদিকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সবার লেখা বলার স্বাধীনতা, অন্যায় অবিচারের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নিরাপদ অধিকার থাকতে হবে। (৪৫) জনগণের চলার পথ রোধ করে বা জনজীবনে বাধা সংকট তৈরি করে কোনো প্রকার ধর্মীয় সমাবেশ, রাজনৈতিক সমাবেশ, পেশাগত দাবির সমাবেশ, দিবস উপলক্ষ পালন বা কোনো অনুষ্ঠান করা হবে না। (৪৬) সকল লাভজনক শিল্প কারখানায় বেতন ছাড়াও দায়দেনা পরিশোধ সাপেক্ষে বার্ষিক নিট লাভের একটা ন্যূনতম অংশ হলেও শ্রমিক কর্মচারীদের দিতে হবে। (৪৭) সকল প্রকার চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন ও নির্মূল করা হবে। ধর্মের নামে রাজনৈতিক দলের নামে যে কোনোভাবে সকল প্রকার দস্যুতা-গুন্ডামি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস-লুটতরাজ-চুরি-ডাকাতি থেকে জনগণের জীবন চলাচল ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আতঙ্কমুক্ত করা হবে।
(৪৮) জলস্থল আকাশে সব ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষাকে জীবন রক্ষা হিসেবে নেয়া হবে। জীবনের সকল ক্ষেত্রে এবং দেশের সকল ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দূষণমুক্ত রাখা সব মানুষের জীবনের সৌন্দর্য ও দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে। ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার জীবননাশক হিসেবে বন্ধ করা হবে। বৃক্ষায়ণ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও নদী সংরক্ষণ করা হবে এবং কৃত্রিম বন্যা থেকে জনগণের ঘরবাড়ি সহায় সম্পদ ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মশার জন্ম প্রতিরোধ করে ডেঙ্গু ও সকল রোধ প্রতিরোধ করা হবে। (৪৯) শিশু-কিশোরদের স্কুলিং ক্লাস শিক্ষা খুবই সহজ আনন্দময় ও শিশু-কিশোর স্বভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে এবং ভয়ভীতিমুক্ত নির্যাতনমুক্ত ও চাপমুক্ত হতে হবে। শিশুকাল থেকেই স্রষ্টার নামে জীবনের সত্য ও স্রষ্টার আলো রেসালাতের আলোকে আলোকিত জীবন এবং নৈতিক ও মানবিক আদর্শে সত্যভিত্তিক মানবিক জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলা হবে। সব ধর্মের শিশুদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের মৌলিক সত্য ও মানবিক শিক্ষার ধারায় গড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকাল থেকেই মানবিক।
