শীতে ৫ শতাধিক খেজুর গাছ কাটতে গাছি আবুল কালামের ব্যস্ত সময় পার

94

॥ লামা প্রতিনিধি ॥
লামায় শীতের আগমনে গাছিরা দুই হাজারের অধিক খেজুর গাছ কাটায় ব্যস্ত সময় করছে। কিন্তু গাছি আবুল কালামের ক্ষেত্রে ভিন্ন। গাছ কাটতে বেশী পারদর্শী হওয়ায় ৮০শতাংশ গাছের মালিকরা শীতের পুরা সময়ই গাছি কালামকে দিয়ে খেজুর গাছ কাটায়। সে কারণে তাঁর শীতের পুরাটা সময় চলে যায়।
গাছি আবুল কালাম বলেন, আমার প্রতি বছর ৫ শতাধিক খেজুর গাছ আমার কাটতে হয়। নিয়ম মাফিক এ গাছ দেখভাল করতে হয়। কারণ, গাছের মালিলরা আমাকে ছাড়া তাদের অন্য কোন গাছিকে খেজুর গাছ গুলি কাটায়না। তারা আমার কাজের সুৃন্দর দেখে গাছ গুলি কাটায়। আমি নিয়মিত গাছ পরিস্কার করে গাছের কোন ক্ষতি না করে যত্ন নিয়ে গাছ গুলো কেটে রস তাদের বাড়ীতে পৌঁছে দিই। তারা আমাকে ভালো পারশ্রমিকও দেয়। সে কারণে আমার আর এ মৌসুমে অন্য কোন কাজ করতে হয়না। এ সময় কালাম আরো বলেনআমার বাড়ী রূপসীপাড়া ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ায়।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শীতের এ সময়ে লামার শতাধিক গাছি খেজুর গাছ কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ,এসময় খেজুর কাছ ছাটাই করে বা পরিষ্কার করে ভাড় টাঙিয়ে খেজুরের রস সংগ্রহ করে। রস থেকে আবার রসের পিঠা, রসের ক্ষীর, খেজুরের গুড় ও পাটালি বানানো হয়। এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছ সাধারণত ১০ থেকে ৩০ ফুট লম্বা হয়। মাথায় ঝাঁকড়া বা চারদিকে ছড়ানো চুলের মতো পাতা ও সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে খেজুর গাছ।
প্রথমে খেজুর গাছের পাতা পরিষ্কার করতে হয়, অনেকটা বাবড়ি চুল ছাঁটার মতো। এরপর গাছের গায়ে লম্বা হয়ে যাওয়া কাঁটাগুলো পরিষ্কার করা। তারপর ‘চাঁচ দেওয়া’। খিল লাগানো এবং ভাড় টাঙ্গানো পর্যন্ত গাছিকে তদারকি করতে হয়। বছরে একবারি খেজুর গাছকে ক্ষতচিহ্ন পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।তাও আবার রস সংগ্রহের জন্যে। এ সকল কাজ করে লামা অর্ধশত গাছিরা।
এ ব্যাপারে লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা বলেন, খেজুরের রস শীতকালীন সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পানীয়। এটি আখের রসের চেয়ে বেশি মিষ্টি ও সুগন্ধি। এই প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের দুর্বলতা দূর করে, আয়রন ও পটাশিয়ামের যোগান দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খেজুরের গুড়, পাটালি, ফিরনি ও বিভিন্ন পিঠা-পায়েস তৈরি করা হয়, যা গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বহন করে। লামা উপজেলা কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে।