রাজস্থলীতে ইটভাটা বন্ধ হলে কর্মসংস্থানহীন ও অপরাধে জড়িয়ে পড়বে শ্রমিকরা

45

॥ মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ইটভাটা বন্ধ হলে কর্মসংস্থানহীনতা ও বিভিন্ন অসামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে বলে আশংকা করছেন বিশিষ্টজনেরা। সেক্ষেত্রে দেশের ২য় বৃহত্তম কর্মশক্তি হল ইট ভাটার শ্রমিকরা।
সারা দেশে সাড়ে চার হাজারের অধিক ইটভাটা রয়েছে বলে সূত্রে জানায়। এরই অংশ হিসেবে রাঙ্গামাটি জেলার ছোট একটি উপজেলা পার্বত্য রাজস্থলী উপজেলায় ৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় ১ গাইন্দ্যা রয়েছে ২টি এসব ইট ভাটায় কাজ করেছেন হাজার শ্রমিক। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম। ইটভাটায় ইট উৎপাদন বন্ধ হলে সমতল জেলা থেকে অধিক মূল্যে পরিবহন করা ইট দিয়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন পড়বে হুমকির মুখে। ব্যাহত হবে উন্নয়নমূলক কাজ, বেকার হতে যাচ্ছে হাজার শ্রমিক।
সংশ্লিষ্টরা বলছে এইভাবে উন্নয়ন কাজগুলো করা সম্ভব নয়। ইটের বিকল্প এখনো কিছু গড়ে উঠেনি। গত ৫ আগষ্ট সরকারের পট পরিবর্তনের পরে অন্তবর্তীকালিন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ বান্ধব ব্লক ইট তৈরি করার নির্দেশনাও দেয়া হয়। পার্বত্য জেলায় কোনওভাবেই ইট ভাটা করতে দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
এমন সিদ্ধান্তে ইট ভাটা বন্ধ হলে এর প্রভাব পরবে মহা কর্মযজ্ঞ সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজসহ রাজস্থলী উপজেলার চলমান থাকা কোটি টাকার সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন কাজগুলোতে। এতে সরকারের কোটি টাকার বিনিয়োগ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন বঞ্চিত হবে এই রাজস্থলী উপজেলার উন্নয়ন কাজের সুফলভোগকারী জনগন। কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হবে ইটভাটা মালিকরা। এতে বেকার হয়ে পড়বে এ পেশায় নিয়োজিত দুই হাজারের অধিকের মতো শ্রমিক। তাই স্থানীয় বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো দাবি উঠেছে ইটভাটা চালু রাখার।এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষন ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রাজস্থলীর ঠিকাদার, নির্মাণ শ্রমিক, ইটভাটা ও পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দসহ পার্বত্য রাজস্থলীবাসী।
বাঙ্গালহালিয়া ও গাইন্দ্যার ইটভাটার নিয়োজিত শ্রমিক মংপ্রু মার্মা, ইয়াফা, কালুই মার্মা, জসিম, নুরুল আলম, কামরুল, নির্মলসহ অনেকে জানান, প্রতি বছরের মত প্রতি পরিবারের জন্য খরচ করেছি। এখন ভাটা বন্ধ থাকলে দেনার দায়ে পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। আমরা ভাটা চালুর দাবী জানাই।
এদিকে রাজস্থলী উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধারা জানান, পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার তিনটি ইটভাটা গুলোতে স্থানীয় এবং পাহাড়ি-বাঙ্গালী মিলে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এ পেশায় তাদের জীবন জীবিকা চলছে। এর বাইরে আরও প্রায় হাজারের অধিকের মতো পরোক্ক ভাবে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তারা আরও বলেন, সমতল জেলা বা চট্রগ্রাম, রাঙ্গুনিয়া, মহালছড়ি হতে পরিবহন করে রাজস্থলীতে উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব না।পাশ্ববর্তী জেলায় ইটভাটা করতে পারলে আমাদের এ উপজেলায় করতে পারবো না কেন? আমরা ইটভাটা মালিকদের বাঁচাতে আমাদের অন্তত আগামী ছয় মাসের জন্য ইটভাটা করা অনুমতি দেওয়ার জন্য পরিবেশ,বন ও জলবায়ু উপদেষ্টার নিকট বিনয়ের সহিত জোর দাবী জানাচ্ছি। অন্যতায় আমাদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে, চিচুমা, জয়সেন, লারপ্রু, অংসহলাসহ অনেকে বলেন, এ অঞ্চলের ইটভাটাগুলো বন্ধ হলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন চুরি, ডাকাতিসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে।
এ বিষয়ে রাজস্থলীর ইট ভাটা মালিক ও স্থানীয়রা বলেন, প্রতি বছর ভ্যাট ট্যাক্স দিতে হচ্ছে সরকারকে তাই ইটভাটা মালিকদের বাঁচাতে আমাদের অন্তত আগামী ছয় মাসের জন্য ইটভাটা করার অনুমতি দেয়ার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টার নিকট বিনয়ের সহিত জোর দাবী জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, এদিকে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের নির্দেশে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে ১টি, গাইন্দ্যার দুইটি ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, রাঙ্গামাটি। এছাড়াও অবৈধ সব ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে ডিসি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে করে উদ্বেগ ও অনিশ্চিতায় দিনকাটছে সংশ্লিষ্টরা।