॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি -২৯৯ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। ২০০৬ সালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসা এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান সেইবার সরকারি চাকুরিবিধির কারণে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে দল মনোনয়ন দেয় তার স্ত্রীকে। তিনি পরাজিতও হন। বিএনপি পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও তবে দীপেন দেওয়ান পরে আর কখনই মনোনয়ন পাননি। সেই নির্বাচনেও মনোনয়ন পান মনিস্বপন দেওয়ান। তবে এবার কপাল খুলেছে এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাঙ্গামাটি আসনে এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি আসনে ওয়াদুদ ভূইয়া, বান্দরবান আসনে সাচিংপ্রুকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
এবার দলের মনোনয়ন চাওয়ার দৌড়ে ছিলেন, সাবেক উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ান, সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক নেতা লে: কর্ণেল (অব) মনীষ দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু। আর অনেক কিছু গুঞ্জন ছাপিয়ে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন পেলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলে লড়াই হবে ত্রিমুখী। লড়াইয়ে থাকবে বিএনপি, জামায়াত ও আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। এখানে নির্বাচন মানে পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের হিসাব-নিকাশ অন্যতম ফ্যাক্টর। রাঙ্গামাটিতে সংখ্যায় বেশি পাহাড়ি ভোটাররা, যাদের বেশির ভাগই আঞ্চলিক দলের সমর্থক। জাতীয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিতেও যথেষ্ট সংখ্যক পাহাড়ি ভোটার বা সমর্থক আছেন। তাছাড়া জাতীয় পার্টিতেও কিছুসংখ্যক পাহাড়ি নেতাকর্মী আছেন। নতুন দল এনসিপিতেও পাহাড়িদের কিছু লোকজন যোগ দিয়েছেন। এখন দেখা যাক, আঞ্চলিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার উপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, বিএনপির রাজনৈতিক দুর্দিনেও দীপেন দেওয়ান সবসময় কর্মীদের পাশে থেকেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন। সৎ, ত্যাগী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি দলের ভেতরে ও বাইরে উভয় মহলে আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমবে এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে। দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনগণও তাদের স্বাভাবিক অধিকার ও সুযোগ পাবে। তৃণমূলের প্রত্যাশা-দীপেন দেওয়ানই সেই নেতৃত্ব, যিনি রাঙ্গামাটির রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা আনতে সক্ষম হবেন।
উল্লেখ্য,, রাঙ্গামাটি ২৯৯ আসনটিতে ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির বিনয় কুমার দেওয়ান। ১৯৯১ সালে জয়ী হন আওয়ামী লীগের দীপংকর তালুকদার। এরপর নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির পারিজাত কুসুম চাকমা ও জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দীপংকর তালুকদার। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির মণিস্বপন দেওয়ান। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন দীপংকর তালুকদার। ২০১৪ সালে দীপংকরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার। এরপর ২০১৮ ও ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন দীপংকর তালুকদার।
