রামুর কচ্ছপিয়ায় বে-মৌসুমে তরমুজ চাষ করে কৃষক ওমর আলী এখন সাবলম্বি

413

॥ শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
কক্সবাজার জেলার শস্যভান্ডার খ্যাত নাইক্ষ্যংছড়ির পাশ্ববর্তী রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বড় জাংছড়ি। এই এলাকায় অসময় মৌসুমে তরমুজ চাষ করে পুরো এলাকা জুড়ে সাড়া ফেলেছে কৃষক ওমর আলী। তার পাশাপাশি সম্বালম্বি হলেন কৃষক ওমর আলী। সে মাত্র ৪০শতক জমিতেই তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখে তিনি দারুণ খুশি।
অসময়ে অর্থাৎ বে-মৌসুমে তরমুজ ক্ষেতে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মূলত এলাকায় কৃষকেরা ধান ও তামাক চাষেই প্রধান উপার্জন গ্রামে হয়তো ধান চাষ নয়তো তামাক চাষ-ই করে থাকেন কৃষকরা। অন্যান্য চাষও আছে তবে যৎসামান্য। শীতে কৃষকের কাছে অতি পছন্দের এবং লাভজনক চাষ হলো তামাক চাষ। কারণ তামাক চাষে লাভ বেশী। এতে পূঁজি কটাতে হয়না। বিভিন্ন তামাক কোম্পানিরা টাকার বান্ডিল ও যাবতীয় চাষ করার সরামঞ্জাম দিয়ে চাষ করার উদ্ভুদ্ধ করে থাকে। টাকার বান্ডিল আর সরামঞ্জাম ঋণ হিসেবে দিয়ে কোম্পানি গুলো দ্বি-তিন গুণ লাভ হাতিয়ে নেওয়ার পরও অনেকে লাখপতিও বনে যায়। আবার ভাগ্যক্রমে লাখ টাকার লোকসানে অনেক ফকিরও বনে যান। যাদের অনেকে ঋণগ্রস্থ হয়ে দেশও ছাড়তে হয়।
এসময় কৃষক ওমর আলী জানান, দীর্ঘ বছর ধরে তামক চাষ করে আসছি। এতে চাষ করে সময়ে লাভের মুখ দেখতে পাই আবার সময়ে ঋণগ্রস্ত হতে হয়। তবে তামাক চাষ যে পরিবেশের ক্ষতি করে সে কথা সব কৃষক জানেন। কিন্ত উন্নত পণ্যের অন্য চাষ না থাকায় এক শ্রেণির কৃষক তামাককে প্রধান চাষ হিসেবে ২ দশক ধরে করে আসছেন।
একপর্যায়ে তরমুজ ক্ষেত বিষয় নিয়ে কৃষক ওমর আলী কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, “ইপসা” নামের একটি এনজিও সংস্থা তাকে অতি মুনাফার কথা বলে জাপানী জাতের কিছু তরমুজের বীজ এনে দেন। আর শিখিয়ে দেন কিছু কৌশলও। সেই কৌশল অবলম্বন করে গেল বর্ষার মৌসুমে মাঝামাঝি সময়ে এই মাচাং দিয়ে তরমুজের চাষ শুরু করেন। প্রথমে বাছাই করেন জমি। ২০ শতক জমিতে এই চাষ শুরু করে ১ হাজার চারা রোপন করেন সেখানে। পরিচর্চার মধ্যমে চারা গাছ গুলো ৭০ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১মাস ১০ দিনে মধ্যে তরমুজ ফলন দেখতে পাই। ৯০ দিন অর্থাৎ ৩মাসের মাথায় তরমুজ গুলো আকারে বড় হয়ে পাকতে থাকে।
তার মতে, এভাবে চারা গাছ বড় হয়ে ৭০ দিনের মাথায় ফলন দিতে শুরু করে। ৯০ দিনের মাথায় তরমুজের আকার বড় হয়ে পাঁকতে থাকে। সে প্রথমে পরিবাসহ দুইটি তরমুজ টেষ্ট করে দেখন। তরমুজ খেয়ে দারুন স্বাদ পেয়েছেন তিনি ও তার পরিবারেরা। তারপর ক্রমন্বয়ে হাটবাজারে তুলেন এই সুস্বাদু তরমুজ। প্রথম দুই দিন তরমুজের বেচাকেনার অবস্থা তেমন ভালো যাচ্ছিলো না। যারা নিয়েছেন তারই সুস্বাদু কথা ছড়িয়ে দিয়ে এখন গ্রাহকের চাহিদা অতুলনীয় ভাবে বেড়ে গেছে বলে জানান কৃষক ওমর আলী। বর্তমানে প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। সাইজ ২ থেকে ৪ কেজি। আর এ তরমুজ পাইকারীতে বিক্রি করেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় হলেও খুচরা বিক্রয় হচ্ছে ১২০ টাকায়।
এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ওমর আলী বয়সে ৫৫ ছুঁই ছুঁই। তিনি এই এককানি জমির তরমুজ বিক্রি করে ইতিমধ্যে পয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আরো ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পাবেন বাকী তরমুজে। তার মতে, এক ৪০ শতক ধান চাষ করলে সেখানে পাওয়া যেত ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। তামাক চাষ করলে পাওয়া যায় ৫০/৬০ হাজার টাকা। কিন্ত জাপানী জাতের এ তরমুজ চাষে তিনি প্রায় ২ লক্ষ টাকা পাচ্ছেন। এ কারণে তিনি খুবই খুশি। তার কাছে অনেক কৃষক এই জাপানি জাতের তরমুজ চাষ করতে প্রতিনিয়ত পরামর্শ নিতে আসেন এলাকার অনেক কৃষক। তিনি তাদেরকেও উদ্ভুদ্ধ করে থাকেন।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমান বলেন, উন্নত জাতের তরমুজ নিয়ে সরকারের অনেক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আর কচ্ছপিয়ার কৃষক ওমর আলির করা জাপানী জাতের তরমুজ নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি অবহিত হয়েছেন। তার একজন প্রতিনিধি তরমুজ কৃষক ওমর আলীর ক্ষেতটি দেখে এসেছেন ইতিমধ্যেই।
সুতারাং এলাকার মাটি ও সার্বিক পরিবেশ যাচাই-বাছাই করে রামু কৃষি অফিস নতুন কিছু করতে চেষ্টা করবেন। ওমর আলীদের মুখে হাসি ফুটাতে কৃষি অফিস সচেষ্ট আছেন-থাকবেন। যেমনটি ইতিমধ্যে করে তার এলাকার কৃষকরা সফলও হয়েছেন। তবে তিনি তামাককে বার বার না বলেছেন। যেহেতু এ তামাক এক ধরণের নিষিধ পণ্য।