॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
প্রায় ৩ মাস পানিতে ডুবে থাকার পর ভেসে উঠল ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত রাঙ্গামাটির আকর্ষনীয় পর্যটন ঝুলন্ত সেতু।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে পর্যটন ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের ওপর থেকে সম্পূর্ণ পানি নেমে গেছে। যদিও সেতুর পানি নামলেও এখনো পাটাতনের তলায় ছুঁই ছুঁই করছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতেই হ্রদের পানি কমে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুটি। আর অবসান হয়েছে পর্যটকদের হতাশার স্থানটি।
ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের ওপর থেকে সম্পূর্ণ পানি নেমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেষে রঙ করা হবে সেতুর বিভিন্ন স্থানে। তবে এবার সেতুতে প্রবেশের টিকেটের মূল্য বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকায় টিকেট বিক্রির পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, গতকাল কিছুটা ভেসে উঠলেও আজ সকালের দিকে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতুটি পুরোপুরি ভেসে উঠেছে। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেতুর কিছু কিছু স্থানে মেরামতের প্রয়োজন। মেরামত করতে দু-এক দিন সময় লাগতে পারে। আর দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটের মূল্য বাড়ানোর ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছি আমরা।
পর্যটন ঝুলন্ত সেতুতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, আমরা জানতাম ঝুলন্ত সেতু পানির নিচে আছে। কিন্তু আজ সকালে রাঙ্গামাটি নেমেই জানতে পারলাম ব্রিজ থেকে পানি সরে গেছে। তাই আমরা সবাই ব্রিজে এসেছি। এখানে ঘুরা শেষ করে তারপর কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে বের হবো। সেতুটি দেখতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই থেকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ার কারণে হ্রদের পানিতে ডুবে যায় পর্যটন ঝুলন্ত সেতুটি। দীর্ঘ ২ মাস ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ঝুলন্ত সেতুটি ভেসে উঠল। এর আগে বছরে দুই একবার সেতুটি পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও এবারই টানা প্রায় ৩ মাসের মতো হ্রদের পানিতে নিমজ্জিত ছিল।
রাঙ্গামাটি শহরে নৈসর্গিক পর্যটন এলাকার মধ্যে আরও রয়েছে সুবলং ঝরনা, পলওয়েল পার্ক, প্রশাসকের বাংলোর পার্ক, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের বেসরকারি পর্যটন বেরান্নে, বড় গাঙ, রান্ন্যাতুগুন ইত্যাদি। এ ছাড়া শহরের বাইরে আছে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালী, কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে পর্যটনস্পট, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, কর্ণফুলী পেপার মিলস ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান।
