আলীকদমের এবার কয়েকটি বেসরকারি ও এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসিতে ভরাডুবি

47

॥ হাসান মাহমুদ, আলীকদম ॥
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধিনে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফেকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ভরাডুবি হয়েছে আলীকদমের কয়েকটি বেসরকারি ও এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। তার মধ্যে রয়েছে আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়, আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। অপরদিকে শতভাগ পাশের রেকর্ডও রয়েছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর ঝুলিতে। এবিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে এবং ৪ জন জিপিএ-৫ সহ শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ জন (৭১.১%) উত্তীর্ণ হয়েছে। চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫১ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২১ জন (৪১.১%), আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন (৭৭.৫%), আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭ জন অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৪ জন (২৩.৫২%), আলীকদম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৩ জনের মধ্যে ৩২ জন (৬০.৩৭%) এবং আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাশ করেছে মাত্র ৩৫ জন (৩৯.৩৩%) পাস করেছে।
সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায়, আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়, আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের গড় পাশের হার ৩৪.৬৪%। যা স্থানীয় শিক্ষানুরাগি ও অভিভাবকদের মধ্যে যথেষ্ট দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
এদিকে এককভাবে আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিগত ০৩ বছরের পাশের হার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করে ১৮ জন (৫২.৯৪%), ২০২৪ সালে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করে ২৮ জন (৬৩.৬৩%) এবং ২০২৫ সালে ১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করে ০৪ জন (২৩.৫২%) পাশ করেছে। এই বিদ্যালয়ের তিন বছরের গড় পাশের হার ৪৬.৬৯%। পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালে অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ জনই ছিলো ২০২৪ সালে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থী।
এই ফলাফলের কারণ হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উদাশিনতা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, কোচিং বানিজ্য এবং নিয়মিত পাঠদানে অনিহার কথা বলছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তারা আরো বলেন বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণে বছর বছর বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর হার কমছে।
অন্যদিকে নিজের পক্ষে সাফাই দিলেন আলীকদম মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধন শিক্ষক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি না থাকলেও বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজীর মত বিষয়গুলোর শিক্ষক না থাকার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ফলাফল খারাপ করছে। শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে বেতন স্বল্পতার কারণে ভালো শিক্ষক রাখা যায় না।